লন্ডনে ছুরিকাঘাতের শিকার হওয়ার পর এক ইরানি টেলিভিশন উপস্থাপক পোরিয়া জেরাতি নিরাপত্তার জন্য ইসরায়েলে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তেহরানের শাসক গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা এই হামলা চালিয়েছে।। যুক্তরাজ্যে নিরাপদ বোধ না করায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
একটি ফার্সি ভাষার সংবাদ চ্যানেলে ইরান ইন্টারন্যাশনালের উপস্থাপক জেরাতি মার্চে দক্ষিণ লন্ডনের উইম্বলডনে নিজের বাড়ির বাইরে একদল লোক ছুরি হামলা চালায়। এই আক্রমণের আগে লন্ডনভিত্তিক এই চ্যানেলটি ইরান থেকে বারবার হুমকি পেয়েছিল। যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা অন্তত ১৫টি অপহরণ বা হত্যার পরিকল্পনা ব্যর্থ করেছিল।
জেরাতি ও তার স্ত্রী এখন মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছেন। ইসরায়েলে একটি গোপন স্থানে থেকে তিনি বলেছেন, আমি যে জায়গায় এখন আছি, তা কিছুটা নিরাপদ।
মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার-টেররিজম কমান্ড এসও১৫-এর কর্মকর্তারা ইসরায়েলের তাদের সহকর্মীদের জেরাতির ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
জেরাতি বলেছেন, যুক্তরাজ্যের পুলিশ ও এখানাকার পুলিশের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। তারা আমার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানে এবং আমাকে নিরাপদ রাখতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে।
ইসরায়েল পালানোর আগে এসও১৫ কর্মকর্তারা জেরাতিকে যুক্তরাজ্যে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে জেরাতি বলেছেন, পুলিশ বলেছিল, আপনি এখন নিরাপদ। আপনি একটি নিরাপদ দেশে বাস করছেন, কোনও তাৎক্ষণিক ও গুরুতর হুমকি নেই। কিন্তু আমি জবাব দিয়েছিলাম যে, আক্রমণের আগেও আমার বিরুদ্ধে কোনও হুমকি ছিল না।
তেহরানের পরিকল্পনায় যুক্তরাজ্যে ইরান ইন্টারন্যাশনালের দুই সাংবাদিককে হত্যা করার পরিকল্পনা প্রকাশের পর ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিল। কিন্তু জেরাতি বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো তেমন কার্যকর নয়। নিষেধাজ্ঞা জারির প্রায় তিন মাস পরই আক্রমণটি ঘটে। যা দেখায় যে নীতিগুলি কাজ করছে না।
যুক্তরাজ্যে ইরানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এই আক্রমণের সঙ্গে ইরান সরকারের কোনও সংযোগ নেই বলে দাবি করেছেন। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।









