ইসরায়েলের বিমান হামলায় পশ্চিম তীরের তুলকারম শরণার্থী শিবিরে হামাসের এক শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের এই হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তুলকারম অঞ্চলে হামাসের নেটওয়ার্কের প্রধান জাহী ইয়াসের আব্দ আল-রেজেক আউফিকে তারা হত্যা করেছে।
ফিলিস্তিন সরকার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যা বন্ধ করার জন্য।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সির মুখপাত্রও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই ধরনের হামলা কোনও পক্ষের নিরাপত্তা বা স্থিতিশীলতা আনবে না, বরং অঞ্চলকে আরও সহিংসতার দিকে ঠেলে দেবে।
গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়ে গেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর প্রতিদিনকার অভিযানে শত শত ফিলিস্তিনি গ্রেফতার হচ্ছেন এবং নিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সঙ্গে গুলিবিনিময় হচ্ছে।
আল জাজিরার ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থা কর্তৃক যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শিবিরের উত্তর-পশ্চিম নাবলুসের আশেপাশে ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য। পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলছিল। উদ্ধারকর্মীরা আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন।
আল জাজিরার সাংবাদিক নুর ওদেহ জানান, তুলকারেম শরণার্থী শিবিরে চালানো এই বিমান হামলা ছিল গত ২০ বছরের মধ্যে পশ্চিম তীরে সবচেয়ে বড় ও মারাত্মক হামলা। তিনি বলেন, দ্বিতীয় ইন্তিফাদা পর্বের হামলার দৃষ্টিতেও এটি ছিল একটি বড় ও মারাত্মক আঘাত। একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও দরিদ্র শরণার্থী শিবিরে এই হামলা চালানো হলো।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (পিডিএফ) অনুযায়ী, তুলকারেম শিবিরে ২১ হাজারের বেশি লোক বসবাস করেন। এটি মাত্র শূন্য দশমিক ১৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে অবস্থিত।








