সিরিয়ার বিদ্রোহী বাহিনীর প্রধান আহমাদ আল-শারা ওরফে আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি আসাদ আমলের নিরাপত্তা বাহিনী বিলুপ্ত ও কারাগার বন্ধ করবেন এবং নির্যাতন ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনবেন। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমি পূর্ববর্তী শাসনের নিরাপত্তা বাহিনী বিলুপ্ত করব এবং কুখ্যাত কারাগারগুলো বন্ধ করব।
আসাদ পরিবারের প্রায় পাঁচ দশকের শাসনে সিরিয়া মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম নিপীড়নমূলক পুলিশি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, আল-শারা ও তার বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) ন্যায়বিচারের দাবি ও সহিংস প্রতিশোধ ঠেকানোর চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে চাচ্ছে।
সিরিয়ার কারাগারে হাজার হাজার বন্দিকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। স্বজনদের সন্ধানে কারাগারগুলোতে ছুটে যাচ্ছেন সিরীয়রা। কেউ কেউ জীবিত মুক্তি পেয়েছেন, কেউ মৃত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন, আর বহু বন্দি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
শারা সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক পৃথক বিবৃতিতে বলেন, নির্যাতন বা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের জন্য ক্ষমা নেই। আমরা তাদের সিরিয়ার ভেতরে খুঁজে বের করব এবং যারা পালিয়ে গেছে, তাদের হস্তান্তরের জন্য অন্যান্য দেশগুলোর কাছে আহ্বান জানাবো।
বিদ্রোহী বাহিনীর অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের প্রধান মোহাম্মদ আল-বাশির জানিয়েছেন, শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনা, ঐক্য স্থাপন এবং মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা তাদের লক্ষ্য। তবে অর্থনৈতিক সংকট বড় বাধা। আমাদের কাছে বৈদেশিক মুদ্রা নেই এবং ঋণ ও বন্ডের জন্য এখনও তথ্য সংগ্রহ করছি। আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ।
বিদ্রোহী বাহিনীর সঙ্গে সাবধানী সম্পর্ক তৈরি করছে বিভিন্ন দেশ। তবে এইচটিএস এখনও যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আরও কয়েকটি দেশে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, নতুন প্রশাসনকে অবশ্যই সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা, মানবিক সাহায্য প্রবাহ নিশ্চিত এবং প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি সৃষ্টি না করার প্রতিশ্রুতি রাখতে হবে।









