ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার মধ্যাঞ্চলীয় শহর দেইর আল-বালাহর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে রবিবার নতুন করে সরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এলাকাটিতে এর আগে সেনা অভিযান চালায়নি ইসরায়েল। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি। এর মধ্যেই খাদ্য সংকট মারাত্মক আকার নিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, গাজা নগরীর উত্তরে জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাকের জন্য অপেক্ষমাণ জনতার ওপর ইসরায়েলি গুলি বর্ষণে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা অভিযোগটি খতিয়ে দেখছে।
দেইর আল-বালাহর দক্ষিণ-পশ্চিমের কয়েকটি এলাকায় আকাশ থেকে লিফলেট ফেলে ইসরায়েলি বাহিনী বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছেড়ে আরও দক্ষিণে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এসব এলাকায় হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা এখনও ওই এলাকাগুলোতে প্রবেশ করেনি, তবে শত্রুর সক্ষমতা ধ্বংস করতে জোরালো অভিযান চালানো হবে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শত্রুর সামরিক সক্ষমতা ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংসে অভিযান চলছে। এ এলাকাগুলোতে তারা এখনও প্রবেশ করেনি।
তবে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, ওই এলাকায় হামাস হয়তো এখনও ইসরায়েলি জিম্মিদের লুকিয়ে রেখেছে। বর্তমানে গাজায় ৫০ জন জিম্মির মধ্যে অন্তত ২০ জন জীবিত আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জিম্মিদের পরিবারের সদস্যেরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত আমাদের প্রিয়জনদের জীবন নিয়ে ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করবে না, এ নিশ্চয়তা কে দেবে?
কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, দেইর আল-বালাহ এলাকায় সামরিক চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্য হতে পারে হামাসকে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করা।
দোহায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও তাতে অগ্রগতির কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে গাজায় জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর থেকে ইসরায়েলের অভিযান গাজায় নিহত হয়েছেন ৫৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।
গাজাজুড়ে রবিবার বিভিন্ন জায়গায় ইসরায়েলি গুলি ও বিমান হামলায় আরও ৪৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ২১ মাসে অঞ্চলটির বহু এলাকা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। হামাস-শাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ক্ষুধায় কঙ্কালসার হয়ে যাওয়া শত শত মানুষ তাৎক্ষণিক মৃত্যুর মুখোমুখি। জাতিসংঘও রবিবার জানিয়েছে, গাজার বেসামরিক নাগরিকেরা অনাহারে ভুগছে এবং দ্রুত সাহায্য পৌঁছানো প্রয়োজন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৭১ শিশু অপুষ্টিতে মারা গেছে। আরও ৬০ হাজার শিশু অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছে।
চ্যাট অ্যাপ ব্যবহার করে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় নার্স জিয়াদ বলেন, ভোরবেলায় আমি রুটি খুঁজতে বের হই, কিন্তু কিছুই পাই না। আমার পাঁচ সন্তানের জন্য অন্তত এক টুকরো খাবার জোগাড় করাও সম্ভব হয় না। যারা বোমায় মারা যাচ্ছে না, তারা অনাহারে মরবে। যুদ্ধ থামুক, অন্তত দুই মাসের যুদ্ধবিরতি চাই।
আরেকজন বলেছেন, রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছেন অনেকে। বাবারা তাঁবু ছেড়ে বের হয়ে যান, কারণ সন্তানদের খাবার নিয়ে প্রশ্নের উত্তর কোনও নেই তাদের কাছে।
ফিলিস্তিনিদের নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ এক্সে রবিবার লিখেছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজার বেসামরিক নাগরিকদের অনাহারে রাখছে। তাদের মধ্যে রয়েছে ১০ লাখ শিশু। অবরোধ তুলে দিন. খাবার ও ওষুধ ঢুকতে দিন।
ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, তারা ত্রাণ আটকে রাখছে না; বরং হামাস খাদ্য লুট করছে। এই অভিযোগ হামাস অস্বীকার করেছে।








