গাজার নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন সাংবাদিক ও চারজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। এ ঘটনায় জাতিসংঘ ‘ভয়াবহ নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা’র তীব্র সমালোচনা করেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজারিনি এক্স-এ লিখেছেন, শিশুরা যখন অনাহারে নিঃশব্দে মারা যাচ্ছে, তখন সাংবাদিকদের কণ্ঠও স্তব্ধ করা হচ্ছে। বিশ্বের উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তা হতবাক করার মতো।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসা জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে অবস্থিত নাসের হাসপাতালে প্রথমে একটি ইসরায়েলি ড্রোন বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে আহতদের সরিয়ে নেওয়ার সময় বিমান হামলা চালানো হয়।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও আল জাজিরা জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে কর্মরত সাংবাদিকরাও নিহতদের মধ্যে রয়েছেন। কয়েক দিন আগেই জাতিসংঘ গাজায় দুর্ভিক্ষের ঘোষণা দিয়েছিল। এর মধ্যে এই হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটলো।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, সাংবাদিকরা লক্ষ্যবস্তু নয়, হাসপাতালও লক্ষ্যবস্তু নয়। গাজায় সাংবাদিক হত্যার ঘটনা বিশ্বকে নীরবতায় আচ্ছন্ন করার জন্য নয়, বরং পদক্ষেপ নিতে সোচ্চার হওয়া উচিত।
গাজায় চলমান ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪৭ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, এই সাংবাদিকরাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখ ও কান। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এসব হত্যাকাণ্ডসহ সব বেসামরিক নাগরিক হত্যার ঘটনা স্বাধীনভাবে ও দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আডানোম গেব্রিয়াসিসও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। এক্স-এ তিনি লিখেছেন, চারজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন, তাদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ রোগীও আছেন।
তিনি আরও বলেছেন, গাজার মানুষ অনাহারে কষ্ট পাচ্ছে। সীমিত স্বাস্থ্যসেবাও বারবার হামলার কারণে ভেঙে পড়ছে। যথেষ্ট হয়েছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা বন্ধ করুন। এখনই যুদ্ধবিরতি চাই।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর জবাবে ইসরায়েলের অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ হাজার ১৯২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই পরিসংখ্যানকেই নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে জাতিসংঘ।








