গাজা সিটির বাসিন্দাদের নতুন করে যেতে চলেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। নতুন হামলার আগে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হামাস জিম্মিদের মুক্তি না দিলে ব্যাপক হামলার হুমকির পর এই নির্দেশ দিলো ইসরায়েল। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মঙ্গলবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজার বাসিন্দাদের বলছি, সুযোগটা কাজে লাগান। ভালো করে শুনুন। সতর্ক করা হলো, এখনই চলে যান।
গাজার প্রায় ১০ লাখ মানুষের সবচেয়ে বড় নগরকেন্দ্রে এ নির্দেশে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ দক্ষিণে যাওয়ার কথা ভাবছেন, আবার অনেকেই বলছেন, কোথাও নিরাপদ নয়, তাই থাকবেন।
ছয় সন্তানের জননী ৫৫ বছর বয়সী উম্মে মোহাম্মদ বলেন, গত সপ্তাহের বোমাবর্ষণ সহ্য করেছি। তবে এবার মেয়ের কাছে যাওয়ার জন্য চলে যাচ্ছি।
ইসরায়েলি সেনারা গাজার দক্ষিণে খান ইউনুসের আল-মাওয়াসি এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যেটিকে ‘মানবিক এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে চলমান যুদ্ধের মধ্যে এর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
নেতানিয়াহু বলেছেন, সেনারা গাজা সিটির ভেতরে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত ট্যাংকের নতুন কোনও অগ্রগতি হয়নি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামাস শেষ জিম্মিদের মুক্তি না দিলে ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের মতো’ সামরিক অভিযান চালানো হবে।
এমন পরিস্থিতি যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে। কাতার সোমবার দোহায় আলোচনায় হামাস নেতাদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি-জিম্মি চুক্তিতে ইতিবাচক সাড়া দিতে চাপ দিয়েছে। হামাস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া কিছু প্রস্তাব তারা আলোচকদের সঙ্গে আলোচনা করছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সাআর বলেছেন, দেশটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।
এদিকে, ইউরোপের কয়েকটি দেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সমালোচকেরা বলছেন, ইসরায়েলের পরিকল্পনা গাজার মানবিক সংকট আরও বাড়াবে।
নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হামাসকে পরাস্ত করা ছাড়া কোনও বিকল্প নেই। হামাস বলছে, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা নিরস্ত্র হবে না।








