অবশেষে সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি সরকার ও কুর্দিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৭আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৭

প্রায় দুই সপ্তাহের সংঘর্ষের পর কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সের (এসডিএফ) সঙ্গে তাৎক্ষণিক দেশব্যাপী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে সিরিয়া। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং এসডিএফ ইউনিটগুলোকে জাতীয় প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে আল-হাসাকা, দেইর ইজোর ও রাক্কা প্রদেশে আবারও সরকারি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, এই সমঝোতা দেশটির স্থিতিশীলতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দামেস্কে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টম ব্যারাক এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে ঐক্যবদ্ধ সিরিয়া গঠনের পথে অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই যুদ্ধবিরতি একটি ১৪ দফা চুক্তির অংশ। এর আওতায় যাচাই-বাছাই শেষে এসডিএফের যোদ্ধাদের সিরিয়ার প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একীভূত করা হবে। একই সঙ্গে বেসামরিক প্রশাসন, সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র, তেল ও গ্যাস স্থাপনা এবং ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট বন্দি ও তাদের পরিবারের জন্য ব্যবহৃত আটককেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেবে দামেস্ক।

টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে এসডিএফ কমান্ডার মাজলুম আবদি চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বৃহত্তর যুদ্ধ এড়াতেই যুদ্ধবিরতি জরুরি ছিল। কুর্দি গণমাধ্যমকে তিনি জানান, সাম্প্রতিক লড়াই এসডিএফের ওপর আরোপিত হয়েছিল এবং সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অর্জন রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।

চুক্তির আওতায় দামেস্ক আবারও কুর্দি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অধিকার স্বীকৃতির অঙ্গীকার করেছে। এর মধ্যে কুর্দি ভাষাকে সরকারি মর্যাদা দেওয়া এবং কুর্দি নববর্ষকে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণার বিষয়টি রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামিক স্টেটবিরোধী যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন জোটে সিরিয়ার অংশগ্রহণ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত সমর্থনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসন গড়ে তোলে কুর্দি-নেতৃত্বাধীন বাহিনী। দীর্ঘদিনের অচল আলোচনার পর এই চুক্তি হলো। এর আগে রাক্কা ও আশপাশের তেল স্থাপনায় সরকারি বাহিনী প্রবেশ করে। কৌশলগত এলাকা ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে দামেস্কের ওপর চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটেই এই সমঝোতা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

/এমবিএম/
সম্পর্কিত
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
সর্বশেষ খবর
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী