ফিলিস্তিনের গাজা থেকে ইসরায়েলি জিম্মি রান গিভিলির দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ শুরু হওয়ার পথ খুলেছে। গত অক্টোবর হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী তার সন্ধান চালাচ্ছিল। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমে বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত সপ্তাহে গোয়েন্দা তথ্য যাচাইয়ের পর গাজা সিটির কাছে ইয়েলো লাইন এলাকায় কবরস্থানে তল্লাশি চালায়। এই এলাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী এখনও ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
হামাসের সশস্ত্র শাখা জানিয়েছে, তারা মধ্যস্থতাকারীদের কাছে গিভিলির অবস্থান সম্পর্কে সব প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিবরণ সরবরাহ করেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গিভিলির মরদেহ উদ্ধারকে একটি অসাধারণ সাফল্য বলে আখ্যা দিয়েছেন।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, মধ্যস্থতাকারীদের নিয়মিত তথ্য দেওয়ার ফলেই মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, এই ঘটনা যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত পালনে হামাসের অঙ্গীকারের প্রমাণ।
ইসরায়েলে গিভিলির বাবা ইতজিক গিভিলি ছেলের কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে আবেগঘন বিদায় জানান। তিনি বলেছেন, তুমি ঘরে থাকতে পারতে। কিন্তু তুমি বলেছিলে, বাবা, বন্ধুদের একা লড়াই করতে যুদ্ধে ছেড়ে দিতে পারি না। আজ পুরো জাতি তোমার সম্মানে দাঁড়িয়ে আছে। আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত, আমার ছেলে।
গিভিলির মরদেহ উদ্ধারের প্রতিক্রিয়ায় ট্রুথ সোশ্যালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, গাজা থেকে শেষ জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অর্থাৎ সব ২০ জন জীবিত জিম্মি এবং সব মৃত জিম্মিকেই ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যা অসাধারণ কাজ।
সম্প্রতি নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, গিভিলির মরদেহ উদ্ধারের অভিযান শেষ হলে গাজার সঙ্গে মিসরের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রসিং রাফাহ পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তথ্য অনুযায়ী, ইয়ামাম কমান্ডো যোদ্ধা সার্জেন্ট মেজর (রিজার্ভ) রান গিভিলি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সকালে যুদ্ধে নিহত হন। এতে গাজা এলাকা থেকে সব জিম্মিকে জীবিত ও মৃত ফেরত আনা সম্পন্ন হলো।








