গম্বুজাকৃতির ছাদ থেকে ঠিকরে আসা আলো, ধোঁয়াটে বাষ্প আর মার্বেল পাথরের মেঝে, তুর্কি হামামের রহস্যময় পরিবেশ ঘরে বসে সাধারণ গোসল কিংবা দামি স্পার অভিজ্ঞতা থেকে পুরোপুরি আলাদা। স্থপতি ও ইতিহাসবিদ আহমেদ ইগদিরলিগিল জানান, এটি মূলত সামাজিকভাবে একত্রিত হওয়ার স্থান। একসময় রাজপরিবারের ধনী নারীদের কাছে এটি ছিল নিজেদের স্বাধীনতা উপভোগ এবং সামাজিক যোগাযোগের এক অনন্য মাধ্যম।
ঐতিহ্যবাহী একটি তুর্কি হামামে প্রবেশের পথকে মূল তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথমে কাঠ দিয়ে গরম রাখা প্রবেশ কক্ষ বা লাউঞ্জ, এরপর মার্বেলের অবগাহন পাত্র (কুরনা) ও শৌচাগারবিশিষ্ট অপেক্ষাকৃত কম গরম কক্ষ। আর একদম কেন্দ্রে রয়েছে প্রধান কক্ষ, যার মাঝখানে থাকে গরম মার্বেলের বেদি বা গোবেক তাশি। অনেক সময় পাশে ‘হালভেত’ নামের অতিরিক্ত গরম কক্ষও থাকে। ইস্তাম্বুলের ২৩৭টি হামামের মধ্যে বর্তমানে ৬০টি চালু আছে, যার মধ্যে ১৫৫৬ সালে তৈরি বিখ্যাত আয়াসফিয়া হুররেম সুলতান হামাম কিংবা ১৭৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত চাগালোলু হামাম অন্যতম।
হামামে যাওয়ার আগে ওয়াক্সিং বা বডি লোশন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন পঁচিশ বছরের অভিজ্ঞ ‘নাতির’ (নারী স্নান সহকারী) আলিফ তামতারতার। মূল স্নানের শুরুতে অতিথিদের গরম মার্বেলের ওপর ১৫ মিনিট শুইয়ে রাখা হয়, যা শরীর থেকে ক্ষতিকর ঘাম বের করে দেয়। এরপর খাঁটি জলপাই তেলের সাবান আর সুতির বিশেষ জালি দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে শুরু হয় কেসে (মৃত কোষ তোলার স্ক্রাব) এবং ফোম ম্যাসাজ (কোপুক মাসাজ)। এই পদ্ধতিতে ত্বকের বয়সের ছাপ দূর হয় এবং রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।
স্নান শেষে মধ্যবর্তী কক্ষে শরীর শুকিয়ে তোয়ালে পেঁচিয়ে একদম শুরুর শীতল কক্ষে ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে চা পান করতে করতে ক্ষণেক জিরিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয় শত বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী আরামদায়ক তুর্কি স্নান।
সূত্র: সিএনএন

প্রতিদিন ৬ লাখ সাইবার হামলার শিকার আমিরাত
এডেন উপসাগর ও সোমালিয়া উপকূলে নতুন নৌবহর পাঠাচ্ছে চীন







