যে কোনও ভালো কাজে মনের জোর থাকা একান্ত প্রয়োজন। মনের জোর থাকলে আর দৃঢ় সংকল্প থাকলে মানুষ অনেক কিছুই করতে পারে। এই যেমন ভারতের ১৬ বছরের কিশোর রাঘব চান্ডাক। মরণব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে দেড় মাস থেকেও আইসিএসই (মাধ্যমিক) পরীক্ষা ৯৫ দশমিক ৮ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাস করেছেন।
গত বছর এপ্রিলে রাঘবের শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা রাঘবকে পরীক্ষা করে জানান, তিনি অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া (এএলএল) রোগে আক্রান্ত। এরপর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকতে হয় দেড় মাস। বাবা-মা আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন ছেলের আর পরীক্ষা দেওয়া হলো না। কিন্তু দমে যাননি রাঘব। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থাতেই পাঠ্যবই আর বন্ধুদের কাছ থেকে নোট নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে দেন। ফলও পান। সম্প্রতি আইসিএসই পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হলে দেখা যায় তিনি পাস করেছেন ৯৫ দশমিক ৮ শতাংশ নম্বর পেয়ে।
আরও পড়ুন: মোদির বিএ ডিগ্রির সনদ দেখালো বিজেপি, ভুয়া বলছে আম আদমি
বার্তা সংস্থা পিটিআইকে রাঘব বলেন, আমার কাজিনও একই ক্লাসে পড়ে। সে আমাকে তার সব নোট দিয়েছে।
রাঘবের গর্বিত বাবা মনোজ চান্ডাক বলেন, সে প্রায় দেড় মাস হাসপাতালে বিছানায় চিকিৎসাধীন ছিল। এরপর তাকে প্রতি সাতদিনে একবার হাসপাতালে গিয়ে কেমোথেরাপি নিতে হতো। এতে তার শরীর দুর্বল হলেও লড়াই করার মনোবল কমাতে পারেনি।
রাঘব ও তার বাবা জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষও বেশ সহযোগিতা করেছে। শিক্ষকরা সরাসরি ফোন করে কোনও সহযোগিতা লাগবে কি না জানতে চেয়েছেন। টাটা মেডিক্যাল সেন্টারে কেমোথেরাপি চলার সময়ও রাঘবের জন্য ক্লাস নোটগুলো প্রস্তুত করে রাখা হতো।
আরও পড়ুন: জঙ্গি সংগঠনগুলোর ঐক্যের ডাক আল কায়েদার, আইএসকে প্রত্যাখ্যান
মনোজ চান্ডাক বলেন, রাঘবের ক্যান্সর ধরার পর পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছিল। আমরা মনে করেছিলাম সে পরীক্ষা দিতে পারবে না। আমরা স্কুলে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাই। কর্তৃপক্ষ আমাদের বলেন, আপনারা রাঘবের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন, পড়াশোনার ব্যাপারটা আমরা দেখব।
স্কুলে রাঘবের জন্য একটি বিশেষ বেঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কখনও ক্লাসে গেলে যাতে করে অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্যান্সার না ছড়ায় সেজন্যই রাঘবের জন্য এ ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
রাঘব বলেন, ‘বাবা-মা, শিক্ষক, বন্ধু, কাজিন ও পারিবারিক চিকিৎসকের সহযোগিতা ছাড়া আমার পক্ষে এ অর্জন সম্ভব হতো না।’
ফুটবল সমর্থক রাঘব স্কুলের পাঠ শেষ করে আইআইটিতে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। সূত্র: হাফিংটন পোস্ট।
/এএ/








