মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির ঘটনার তদন্তে নেমেছে। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে সিনেটের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির প্রধান এ ঘটনার তদন্ত দাবি করেছিলেন। তদন্ত দাবি করেছিলেন প্রতিনিধি পরিষদের একজন সদস্যও।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ডুডলিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সায়েন্স কমিটি একটি চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠির অনুলিপি রয়টার্সের হাতে এসেছে। চিঠি থেকেই রয়টার্স তদন্তের বিষয়টি জানতে পারে। পরে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের একজন মুখপাত্রও ওই ব্রিটিশ বার্তা সংস্থার কাছে এ কথা স্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাকড করে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ৯৫১ মিলিয়ন ডলার চুরির চেষ্টা করে। পরে বেশ কিছু পেমেন্ট বন্ধ করে দিয়ে বেশিরভাগ অর্থচুরি ঠেকানো গেলেও ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনে স্থানান্তরে সক্ষম হন হ্যাকাররা। ওই অর্থ ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার ব্রাঞ্চের চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। পরে তা চলে যায় ক্যাসিনোতে। ওই ঘটনার পর থেকে সুইফটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশ ব্যাংকে সাইবার হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় ব্যাংকগুলোও তাদের সুইফট ম্যাসেজিং নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা জোরদার করে।
আলোচিত এই ঘটনায় সরে যেতে হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে। রিজার্ভ চুরির পেছনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই আন্ত:ব্যাংক লেনদেনের বৈশ্বিক সংগঠন সুইফট এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডালের রিজার্ভ সিস্টেমকে দায়ী করা হয়। তবে তারা শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এ দায় অস্বীকার করে আসছে।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস কমিটির চিঠি যায় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে। চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি সংক্রান্ত সব তথ্য দিতে বলা হয়। এজন্য সময় দেওয়া হয়েছে ১৪ই জুন পর্যন্ত। ব্যাংকের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, তারা কংগ্রেস কমিটির অনুরোধে সাড়া দিয়ে তথ্যগুলো পাঠাবেন।
প্রতিনিধি পরিষদের সায়েন্স কমিটির চেয়ারম্যান ল্যামার স্মিথ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘আর্থিক ব্যবস্থাপনার উপর সাম্প্রতিক সাইবার হামলার প্রেক্ষিতে কমিটি নিউ ইয়র্ক ফেড থেকে এই বিষয়গুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে- ঘটনার পর নিউ ইয়র্ক ফেড কী পদক্ষেপ নিয়েছিল, সুইফটের কোনো গলদ ছিল কি না, তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে, এই ধরনের ঝুঁকি ঠেকাতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
একই ধরনের তথ্য চেয়ে গত মাসে সিনেটের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির প্রধান টম কার্পেরও নিউ ইয়র্ক ফেডকে চিঠি দিয়েছিলেন। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে একইভাবে প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রতিনিধি পরিষদের একজন নারী সদস্য ক্যারোলিন ম্যালোনি। নিরাপত্তা অসঙ্গতির প্রশ্ন তুলে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সূত্র: রয়টার্স
/বিএ/







