লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে বন্দি জীবনের পঞ্চম বছর শুরু করতে যাচ্ছেন বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। তার মুক্তির দাবিতে জোরালো হয়েছে বিশ্ববিবেক। বিশ্বব্যপী মুক্তচিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বরা আওয়াজ তুলছেন, আর ‘অবৈধ’ভাবে আটক রাখা যাবে না অ্যাসাঞ্জকে।
অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী জানিয়েছেন, সুইডেন এখনও তার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রাখায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন অ্যাসাঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্রসহ দুনিয়াজুড়ে ক্ষমতাশালী মানুষদের তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে সাড়া ফেলার এক পর্যায়ে ২০১০ সালে সুইডেনে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ।
আরও পড়ুন: চীন থেকে বৃষ্টি কিনবে ভারত!
অ্যাসাঞ্জের বন্দি জীবনের চার বছর পূর্তিতে তার মুক্তির দাবিতে প্রচারণা চালাবেন বিশ্বমানবতার পক্ষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর মার্কিন বুদ্ধিজীবী নোম চমস্কি ও চলচ্চিত্র পরিচালক মাইকেল মুর ও কেন লোচের মতো মানুষেরা। থাকবেন পেটি স্মিথ, ব্রায়ান ইনো, পিজে হারভে, ইয়ানিস ভারোফাকিস, ভিভিয়ান ওয়েস্টউড।
নির্মাতা লোচ বলেন, ‘একজন সাহসী মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার জন্য প্রভাবিত ও ব্যবহৃত হচ্ছে ব্রিটেনের আইন ব্যবস্থা। তথ্য ও মতামতের স্বাধীনতার পক্ষের সবার উচিত জুলিয়ানের পক্ষে দাঁড়ানো। তাকে তার নিজের জায়গায় স্বাধীনভাবে থাকতে দেওয়া।’
ক্রোয়েশিয়ার দার্শনিক শ্রেকো হরভাত। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সংকটপূর্ণ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। পুরো পৃথিবী থেকে একত্রিত হয়ে ১৯ জুন আমরা জুলিয়ানের পক্ষে আওয়াজ তুলবো, কেননা তিনি আমাদের সবার জন্য কথা বলেছেন।’
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠা করেন জুলিয়ান। একটি ধর্ষণ মামলা দিয়ে ২০১০ সালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২০১২ সালের ১৯ জুন গ্রেফতার এড়াতে অ্যাসাঞ্জ স্বেচ্ছায় ইকুয়েডর দূতাবাসে যান। তারপর দীর্ঘ চার বছর কেটে গেলেও তিনি আর সেখান থেকে বের হতে পারেননি। ওই দূতাবাসে একটি ঘরকে শয়নকক্ষ ও অফিস হিসেবে ভাগ করে ব্যবহার করতে পারেন তিনি। সূত্র: গার্ডিয়ান
/ইউআর/বিএ/








