ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বিদায়ের পর স্বাভাবিকভাবেই স্কটল্যান্ডও আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত থাকছে না। আর তাই সদস্যপদ ধরে রাখতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে স্কটল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় অংশ নিতে যাচ্ছে স্কটল্যান্ড। শনিবার (২৫ জুন) মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিওন এসব কথা জানান।
স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য দ্বিতীয় গণভোটের আহ্বান জানানোর একদিন পরই স্টারজিওন জানিয়েছেন, তিনি ইইউ নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে চান। প্রয়োজনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাধীনতার জন্য দ্বিতীয় গণভোট আয়োজনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
স্কটল্যান্ডের মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠকের পর স্টারজিওন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ইইউ’র সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে স্কটল্যান্ড সরকার ইইউ নেতাদের স্কটল্যান্ডে একটি জরুরি বৈঠকে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানাবে।
তিনি আরও জানান, মন্ত্রিসভা ইইউ’তে থাকার পক্ষে মত দিয়েছে। ইইউ’র সঙ্গে স্কটল্যান্ড সরকার সুস্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।
স্কটল্যান্ডের ব্রেক্সিটবিরোধী ভোটারদের স্টারজিওন নিশ্চিত করেন যে, তারা ইইউ’র সঙ্গেই থাকবেন। স্কটল্যান্ডের ৬২ শতাংশ মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পক্ষে রায় দিয়েছেন। আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৩৮ শতাংশ।
স্টারজিওন জানান, এ লক্ষ্যে আইনি, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক বিষয়ক একটি বিশেষ উপদেষ্টা দল গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা স্কটল্যান্ডজুড়ে এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছি। বিশেষ উপদেষ্টা দলে জাতীয়তাবাদীদের বাইরে বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ব্রিটেনের অন্যান্য অঞ্চলের যেসব মানুষ স্কটল্যান্ডকে নিজের ঘর হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তাদের স্বাগতম জানাই। আমি এই বার্তাটি সবার কাছে পৌঁছে দিতে চাই।’
এর আগে শুক্রবার স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার বলেন, স্কটিশরা নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়াটা হবে ‘গণতান্ত্রিকভাবে অগ্রহণযোগ্য’। স্কটল্যান্ডকে যদি এভাবে ইইউ থেকে বের হয়ে যেতে হয় তবে স্কটিশ পার্লামেন্টের দ্বিতীয়বারের মতো গণভোটের পথে হাটা উচিৎ। এ সময় ২০১৪ সালের গণভোটের কথা স্মরণ করেন তিনি। যুক্তরাজ্য থেকে বের হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করার পক্ষে-বিপক্ষে গণভোট করা হয়েছিল ২০১৪ সালে। ৫১-৪৯ শতাংশ ভোটে তখন যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতার পক্ষ নিয়েছিল স্কটল্যান্ডের জনগণ।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এসএ/এমপি/








