জার্মানিতে ধারাবাহিক হামলা আর তাতে শরণার্থীদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তুমুল বিতর্ক সত্ত্বেও চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল ঘোষণা দিলেন, শরণার্থীদের জন্য ঘোষিত ‘উন্মুক্ত দরজা নীতি’ পাল্টাবে না তার দেশ। মিউনিখ, ভ্যুর্ৎসবুর্গ, রয়েটলিঙেনসহ আন্সবাখে হামলার ঘটনার পর চাপের মুখেও শরণার্থী নীতি পাল্টানোর সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা জার্মানির শরণার্থী নেওয়ার প্রস্তুতিকে স্তিমিত করে দিতে চায়, কিন্তু সরকার এর বিরুদ্ধে। সরকার সন্ত্রাসীদের ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টার বিরুদ্ধে উল্লেখ করে মের্কেল বলেন, ‘ তারা আমাদের সংঘবোধকে ধ্বংস করতে চায়। ধ্বংস করতে চায় আমাদের মুক্ত পরিসরকে। বিপদে পড়া মানুষকে সহায়তার যে আগ্রহ রয়েছে আমাদের, তারা সেটাও ধ্বংস করতে চায়। তাই শরণার্থীদের জন্য যে মানবিক ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি তা থেকে সরে আসলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।’
সন্ত্রাসী হামলা রোধে মের্কেল বরং তথ্য সংগ্রহে নতুন ব্যবস্থা নেওয়াসহ ইন্টারনেটে অস্ত্র বিক্রি ঠেকানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের মতো আরও বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। গত গ্রীষ্মের এক বক্তব্যের পুররোক্তি করে তিনি শরণার্থী গ্রহণের জার্মান নীতির প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি বলছি না যে কাজটা খুব সহজ হবে। তবে আগেও যেমন বলেছি, এখনও বলছি যে আমরা সমস্যাটা কাটিয়ে উঠতে সমর্থ হব। বিশ্বায়নের যুগে এ এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব। এরইমধ্যে সমস্যার অনেকটাই আমরা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। বাকীটাও পারব।’
সরকারের নীতির প্রসঙ্গে মের্কেল বলেন, নিপীড়ন এবং যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যেতে চাওয়া সুরক্ষার অধিকার আছে।
সম্প্রতি জার্মানির বাভারিয়ায় দুটো হামলার ঘটনাই ঘটিয়েছে আশ্রয়প্রার্থীরা। রোববার আন্সবাখে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় এক সিরীয়। ১৮ জুলাই ভ্যুর্ৎসবুর্গ এ ট্রেনে কুড়াল ও ছুরি নিয়ে হামলা চালানো ব্যক্তিও ছিল এক আফগান আশ্রয়প্রার্থী। দুই হামলাকারীই ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আনুগত্য স্বীকার করেছে। গত ২২ জুলাই মিউনিখে হামলাকারী ইরানি বংশোদ্ভূত এক জার্মান।
তারপরও মের্কেল বলেছেন, যারা আশ্রয় পাওয়ার যোগ্য তাদেরকে আশ্রয় দেওয়ার নীতিতে জার্মানি অটল থাকবে। হামলা চালিয়েছে যারা তাদের সম্পর্কে মের্কেল বলেছেন, ‘তারা এই তৎপরতা চালিয়ে তাদের নিজেদের দেশের জন্যই লজ্জা ডেকে এনেছে।
/বিএ/








