যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্সে বাংলাদেশি ইমামের হত্যাকারীকে সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত করার দাবি করেছে মার্কিন পুলিশ। সেই হত্যাকারীকে ধরতে অভিযান পরিচালনার কথাও জানিয়েছে তারা। তবে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখনও জানতে পারেননি বলে দাবি করছেন তারা। তবে কুইন্সের মুসলিম সম্প্রদায় একে মুসলমানবিদ্বেষের ফলাফল হিসেবেই দেখছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএসনিউজ.কম-এর এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।
শনিবার মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পথে কুইন্সের ওজোন পার্ক এলাকার একটি রাস্তায় হত্যার শিকার হন যুক্তরাষ্ট্রের আল ফুরকান জামে মসজিদের ইমাম ও তার সহকারী। নিহত ইমাম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আলালা উদ্দিন আকুঞ্জি (৫৫)। তার সহকারীর নাম থারা উদ্দিন (৬৫)।
পুলিশের দাবি, ‘নজরদারি ক্যামেরা’য় বাংলাদেশি ইমামের হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে সমর্থ হয়েছেন তারা। নিউইয়র্ক পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর হেনরি শাটনার বলেন, ‘নজরদারি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ বলছে, হত্যাকারী পেছন থেকে এসে ইমাম আর তার সহযোগীকে গুলি করে পালিয়ে যায়।’ শাটনার জানান, তার পরনে একটি ধূসর রঙের পোলো শার্ট ছিল। পালানোর সময় তিনি বন্দুক হাতে নিয়েই পালিয়ে গেছেন।
শাটনারের দাবি, ‘ওই ইমাম ধর্মীয়বিশ্বাসের কারণে আক্রান্ত হয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এমন কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।’ তবে নিউ ইয়র্কের কুইন্সে বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতারা আশঙ্কা জানিয়েছেন, ইসলামবিরোধী বিদ্বেষ থেকেই ওই দুই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। সমাবেশে তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
যেখানে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তার কাছাকাছি সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স। ওই সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় আরেক মসজিদের নেতা কবির চৌধুরীও এ হত্যাকাণ্ডকে মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ইম যা বলছি শুনুন: এটি ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ’।
নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল দি ব্লাসিওর সঙ্গে কাজ করেন সারাহ সাইদ। তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে মার্কিন সমাজের বন্ধন দৃঢ় করতে কাজ করেন। সারাহ বলেন, ‘আমি নিজেও একজন মুসলমান। এবং মুসলমান হিসেবে আমি ভয়ের কারণটা বুঝতে পারছি। তবে এখন জরুরি হলো তদন্ত’।
ইউএস.কম এর খবরে বলা হয়েছে, সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায় এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অসহিষ্ণুতাকে কারণ মনে করছে। তারা মনে করছে, ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী একজন মুসলমান হওয়ার কারণে হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হয়েছেন ওই ইমাম। ইউএসনিউজ.কম-এর খবরে বলা হয়েছে, তাদের প্রতিবেদক কাউকে কাউকে বলতে শুনেছেন যে ধর্মীয় পোশাক পড়ে চলাফেরার সময় সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
এদিকে এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে সন্দেহভাজন হত্যাকারীর খোঁজে অভিযান চলছে বলে দাবি করেছে তারা। সূত্র: ডেইলি মেইল, ইউএসনিউজ.কম
/এফইউ/বিএ/








