উৎসবমুখর পরিবেশে মালয়েশিয়ার ১৪তম সাধারণ নির্বাচনে নিজেদের ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। ভোট দিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান দুই জোটের প্রধান নাজিব রাজাক ও মাহাথির মোহাম্মদ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ অন্য শহরগুলোতে সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ ভিড় জমে যায়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বেলা তিনটা পর্যন্ত ৬৯ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া ভোট গ্রহণ চলবে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত।
এই নির্বাচনে বিরোধি জোট পাকাতান হারাপান বা আশার জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ২২ বছর ধরে ক্ষমতায় থেকে আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক খেতাব পাওয়া মাহাথির মোহাম্মদ। আর বারিসন ন্যাসিওনাল জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। এবারের নির্বাচনে ২২২ টি সংসদীয় ও ৫০৫টি প্রাদেশিক আসনে নির্বাচনের জন্য মোট দুই হাজার ৩৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মোট ৮ হাজার ২৫৩ টি পোলিং স্টেশনে ২৮ হাজার ১১৫টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সকালেই নিজেদের আসনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন প্রধান দুই জোটের নেতা।
২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা ২২ বছর ধরে ক্ষমতায় থেকে আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক খেতাব পাওয়া মাহাথির মোহাম্মদ সকালে কেদাহ প্রদেশের আলোর সেতার কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন তিনি। ভোট দিতে কেন্দ্রে প্রবেশ করলে সাংবাদিক আর ক্যামেরাম্যানদের একটি দল ৯২ বছর বয়সী এই নেতার ছবি তুলতে ভিড় জমায়। ভোট দিয়ে নিজের গাড়িতে ওঠার সময়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মানুষ যেভাবে ভোট দিতে আসছে তাতে আমি জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।
ভোটগ্রহণ শুরুর পর পেকান আসনে নিজের ভোট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। দেশটির সংবাদমাধ্যম স্টার অনলাইন জানিয়েছে, পেকান শহরের শোকলাহ সেইন সুলতান আহমদ শাহ ভোটকেন্দ্রে সকাল নয়টা ২০ মিনিটে নিজের স্ত্রী রোশমাহ মানসুরকে নিয়ে উপস্থিত হন তিনি। সে সময় ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন তিনি। সাংবাদিকদের দেখান বিজয়ের চিহ্ন।
ভোটগ্রহণ শুরুর পর নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসিম আবদুল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, অন্য নির্বাচন থেকে এই নির্বাচনে আমরা পার্থক্য দেখতে পাচ্ছি। মানুষ ভোট দিতে উদগ্রীব হয়ে আছে। অনেকেই সকাল সকাল ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে ভিড় করছেন।
নির্বাচন ঘিরে ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এই বিষয়ে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরে গেলে তাদের ভোট জালিয়াতির কবলে পড়তে পারে বলে অনলাইনে যে ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে তার বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। কোনও কোনও পোস্টাল ভোটারের কাছে ব্যালট পৌঁছেনি বলে যে খবর পাওয়া গেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান কমিশনের চেয়ারম্যান। এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন আখ্যায়িত করে তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিন তিনি।








