বাংলাদেশ-বার্মিংহামকে একসূত্রে বাঁধতে নতুন সাংস্কৃতিক প্রকল্প

Send
অদিতি খান্না, যুক্তরাজ্য
প্রকাশিত : ১০:২৩, মে ০২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৯, মে ০২, ২০১৯

যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বার্মিংহামের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগসূত্রকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে তিন বছরের একটি সাংস্কৃতিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ট্রান্সফর্মিং ন্যারেটিভস নামের প্রকল্পটিতে শৈল্পিক কর্ম, সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব কর্মসূচি, নতুন দর্শক, সৃজনশীল বিনিময় ও সংলাপ এবং শৈল্পিক অর্জন অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে কালচার সেন্ট্রাল এবং সহযোগিতা করছে আর্টস কাউন্সিল ইংল্যান্ড ও ব্রিটিশ কাউন্সিল। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো বার্মিংহামকে সমসাময়িক বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি মিল্পের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে পরিণত করা।

অনেক প্রকল্পের মধ্যে একটি হচ্ছে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিল্পী আফতাব রহমানের ‘ওয়াটারওয়েজ’ নামের আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এতে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ ও বার্মিংহামের নৌপথের ছবি। তিনি বলেন, প্রকল্পটির কাজে এই বছরের শুরুতে বাংলাদেশ গিয়েছিলাম। এই আলোকচিত্রের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও বার্মিংহামের ঐতিহ্য তুলে ধরতে পেরে আর্মি গর্বিত।

আফতাব রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ নদী-নালার জন্য বিখ্যাত। বার্মিংহামে ইতালির ভেনিসের চেয়ে বেশি খাল রয়েছে। চার দশকের বেশি সময় ধরে উভয় দেশের নৌপথে সংযুক্তির এতিহ্য রয়েছে। গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে আফতাব রহমান সহস্রাধিক ছবি তুলেছেন। বার্মিংহামে আয়োজিত এই সপ্তাহের প্রদর্শনীতে তিনি সেগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটি বাছাই করা ছবি দেখিয়েছেন। হিউম্যান অ্যাপিল নামের সংগঠনের বাংলাদেশে পানির বিশুদ্ধিকরণ প্রকল্পের জন্য ছবিগুলো নিলামে বিক্রি করা হবে।

ট্রান্সফর্মিং ন্যারেটিভস প্রকল্পের ব্যবস্থাপক সোফিনা জ্যাগট বলেন, বাংলাদেশ ও বার্মিংহামের দ্বৈত ঐতিহ্যের ধারক আফতাবের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আমরা নতুন ন্যারেটিভ রচনা করতে যাচ্ছি। বার্মিংহাম, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আরও অনেক শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের এমন দেখার অপেক্ষায় রয়েছি। তিনি বলেন, বার্মিহ্যাম, ‘বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে অন্যান্য শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্প দেখার জন্য অপেক্ষা করছি আমরা।’

যুক্তরাজ্যের শহরে ব্রিটিশ কাউন্সিলের বৃহত্তম প্রকল্পের অংশ হিসেবে ট্রান্সফর্মিং ন্যারাটিভসে বার্মিংহ্যামের সংগঠনগুলো বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিল্পীদের সঙ্গে দেকা করেন, অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং শৈল্পিক প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন করেন যা তিনবছরের এই প্রকল্পে জায়গা পাবে।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইংল্যান্ড অ্যান্ড সিটিস বিভাগের পরিচালক ক্যাথি ম্যাকার্ডি বলেন, ‘ট্রান্সফর্মিং ন্যারাঠিভস আদতে বার্মিংহ্যামে থাকা বাংলাদেশি ও পাকিস্তানের মতো দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির প্রতিভাববান শিল্পীদের পারষ্পরিবার সুবিধা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করে। তিনি বলেন, ‘তিন বছরের এই প্রকল্পের লক্ষ্য সমসাময়িক দক্ষিণ এশীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বার্মিংহ্যামকে অগ্রদূত হিসেবে বৈশ্বিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা। আমরা এর পূর্ণ সমর্থন দেই। ট্রান্সফর্মিং ন্যারাটিভস খুবই প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ যা অতীত থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে বর্তমানে জোর দিচ্ছে।

আর কাউন্সিল ইংল্যান্ডের এরিয়া পরিচালক পিটার নক বলেন, বৈচিত্র ও সৃজনশীলতার মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। আর এটা দারুণ হবে ট্রান্সফর্মিং ন্যারাটিভসের বিভিন্ন শহরের পরিবেশ ও অবকাঠামো কিভাবে শিল্পী ও দর্শকদের অনুপ্রাণিত করে।

/এমএইচ/এএ/

লাইভ

টপ