অভিশংসন বিচারে ট্রাম্পের আইনি দলে ক্লিন্টনের তদন্তকারী

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০১:৩৭, জানুয়ারি ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪১, জানুয়ারি ১৮, ২০২০

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সিনেটে শুরু হওয়া অভিশংসন বিচার প্রক্রিয়ায় তার পক্ষে লড়বেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের অভিশংসন তদন্তে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা। সিনেটে ট্রাম্পের পক্ষে অংশ নেওয়া আইনজীবীদের মধ্যে থাকছেন কেন স্টার ও রবার্ট রে। এই দুজনেই সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টনের অভিশংসন তদন্ত করেছেন। এছাড়াও ট্রাম্পের পক্ষে থাকছেন অ্যালান ডেরসোইটজ। তার পুরনো ক্লায়েন্টদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ফুটবল তারকা ওজে সিম্পসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্পের আইনি দলের নেতৃত্ব দেবেন হোয়াইট হাউসের পরামর্শক প্যাট সিপোলোন এবং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আইনজীবী জে সেকুলো।

বৃহস্পতিবার মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে শুরু হয়েছে ট্রাম্পের অভিশংসন বিচার। প্রতিনিধি পরিষদের তদন্ত কমিটির প্রধান অ্যাডাম শিফ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো উচ্চস্বরে পড়ে শুনিয়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন। আগামী সপ্তাহে শুরু হতে পারে বিচারের শুনানি।

ওই বিচারে ট্রাম্পের পক্ষে অংশ নেওয়া কেন স্টার মার্কিন বিচার বিভাগের স্বাধীন পরামর্শক ছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল কিন্টন ও তার স্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনের হোয়াইট ওয়াটার কেলেঙ্কারি তদন্ত করেন তিনি। ১৯৮০-দশকের মধ্যভাগে আরকানসাসে ভূমি বিনিয়োগে ক্লিন্টন দম্পত্তির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ওই কেলেঙ্কারি হোয়াইট ওয়াটার কেলেঙ্কারি নামে পরিচিতি পায়। ওই অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়েই বিল ক্লিন্টনের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের ইন্টার্ন মনিকা লিওনস্কির সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে। এর জেরে ১৯৯৮ সালে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হন প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টন। তবে সিনেটে খালাস পান তিনি।

এছাড়া ট্রাম্পের আইনজীবী দলে থাকা অ্যালান ডেরসোইটজ হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে তিনি বলেছেন, গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে অভিশংসন বিচার নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘একজন স্বাধীন সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি এটা করতে রাজি হয়েছি। রাজনীতি নিয়ে আমার কোনও অবস্থান নেই-কেবলমাত্র সংবিধান নিয়ে আছে’। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিশংসনের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, এটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে পেসিডেন্ট পদ দুর্বল হয়ে যেতে পারে আর দলীয় বিবেচনার ক্ষেত্রে অভিশংসন একটা অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। এক বিবৃতিতে ডেরসোইটজ জানিয়েছেন, ক্লিন্টনের অভিশংসনেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি। আর ২০১৬ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন হিলারি ক্লিন্টনকে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের ফাঁস হওয়া ফোনালাপে দেখা যায়, সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে রীতিমতো চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প। ওই ফোনালাপের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পর ট্রাম্পের অভিশংসনের দাবি সামনে আসে। তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর উদ্যোগ নেয়  ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ। গত মাসে সেখানে অভিশংসিত হওয়ার পর এবার সিনেটে চূড়ান্ত বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প।

/জেজে/

লাইভ

টপ