চীনে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:৫৯, জানুয়ারি ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:২২, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

চীনে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আর দেশজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৩০ জন। বুধবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন ১৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। তবে বৃহস্পতিবার কর্মকর্তারা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন। তার বয়স ছিল ৮০ বছর। চীনা কর্তৃপক্ষ ও দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
এদিকে শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া চান্দ্র নববর্ষের সপ্তাহব্যাপী ছুটিতে লাখ লাখ চীনা নাগরিকের ভ্রমণের পরিকল্পনা বা কর্মসূচি রয়েছে। এতে করে এ ভাইরাসে সংক্রমণের হার আরও ত্বরান্বিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ভাইরাসটি ছড়িয়েছে মূলত চীনের উহান শহর থেকে। চীন ছাড়াও থাইল্যান্ডে দুইজন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানে একজন করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই চীনের উহান শহর থেকে নিজ দেশে ফিরেছিলেন। সর্বশেষ বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলিধরন জানিয়েছেন, সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে কর্মরত একজন ভারতীয়  নার্সও এ আক্রান্ত হয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত কলকাতা, মুম্বাই, দিল্লি, চেন্নাইসহ সাতটি বিমানবন্দরে ৪৩টি আকাশযান ও ৯ হাজার যাত্রীর শরীরে এ ভাইরাস পরীক্ষা করার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্বজুড়েই ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চীন ফেরত যাত্রীদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

ভাইরাসজনিত ঠান্ডা বা ফ্লু-র মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি বা নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা যাবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাসটির প্রাথমিক উৎস কোনও প্রাণী হতে পারে। তবে চীনা কর্মকর্তারা মনে করছেন, এর সঙ্গে উহানের একটি সামুদ্রিক খাবারের বাজারের সম্পর্ক রয়েছে। কেননা স্থানীয় ওই বাজারে যারা যাতায়াত করেছেন, তাদের মধ্যেই প্রথম এ ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে।

এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসের কোনও ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ায় এর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনা ভাইরাসের লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হচ্ছে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, জ্বর ও কাশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তারপর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং তখনই কোনও কোনও রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। ভাইরাসটি নতুন হওয়াতে এখনই এর কোনও টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। এমনকি এমন কোনও চিকিৎসাও নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে মানুষকে নিয়মিত হাত ভালোভাবে ধোয়া নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে। হাঁচি-কাশির সময় নাক-মুখ ঢেকে রাখা এবং ঠান্ডা ও ফ্লু আক্রান্ত মানুষ থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দিয়েছে তারা। এশিয়ার বহু অংশের মানুষ সার্জিক্যাল মুখোশ পরা শুরু করেছে। আপাতত প্রতিকার হিসেবে এ ভাইরাস বহনকারীদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে বলছেন বিজ্ঞানীরা। ডাক্তারদের পরামর্শ, বারবার হাত ধোয়া, হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শ না করা ও ঘরের বাইরে গেলে মুখোশ পরা।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. গ্যাব্রিয়েল লিউং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত এ নির্দেশনায় বলছেন, হাত সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, বারবার হাত ধুতে হবে। হাত দিয়ে নাক বা মুখ ঘষবেন না, ঘরের বাইরে গেলে মুখোশ পরতে হবে। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে মুখোশ পরুন, আর নিজে অসুস্থ না হলেও, অন্যের সংস্পর্শ এড়াতে মুখোশ পরুন।’

/এমপি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ