ভারতে ঋতুস্রাব পরীক্ষার নামে যা ঘটেছে ছাত্রীনিবাসে

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০১:৫৮, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৩৫, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০

ভারতের একটি কলেজে একদল ছাত্রীকে অন্তর্বাস খুলে তাদের যে ঋতুস্রাব চলছে না তা প্রমাণে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। একটি হিন্দু ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত গুজরাটের ওই কলেজের নাম শ্রী সহজানন্দ গার্লস ইনস্টিটিউট। এ ঘটনার পর সেখানকার হোস্টেল কর্মকর্তা এবং দুই শিক্ষকের ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মোট ৬৮ জন ছাত্রীকে বাধ্য করা হয়েছে তাদের যে ঋতুস্রাব চলছে না, তা প্রমাণ করতে। ভারতের অনেক অঞ্চলেই মেয়েদের ঋতুস্রাব নিয়ে নানা কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে।
সহজানন্দ গার্লস ইনস্টিটিউটের ছাত্রীরা জানিয়েছেন, তাদেরকে দল বেঁধে কলেজের ক্যাম্পাস থেকে টয়লেটে হেঁটে যেতে বাধ্য করা হয়। সেখানে তাদের কাপড় খুলতে বলা হয়।

বিবিসি-র সঙ্গে কথা হয়েছে এমন কয়েকজন ছাত্রী জানিয়েছেন, এই বিষয়টি বাইরে প্রকাশ না করতে কলেজের কর্মকর্তারা তাদের নির্দেশ দিয়েছে। এক ছাত্রী জানান, ‘১১ ই ফেব্রুয়ারি পুরো কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে এই ঘটনা ঘটেছে। তারা একে একে আমাদের বাথরুমে নিয়ে গেছে। সেখানে পরীক্ষা করে দেখেছে আমাদের ঋতুস্রাব চলছে কিনা। ওরা আমাদের গায়ে স্পর্শ করেনি, কিন্তু মৌখিকভাবে এমন হেনস্থা করেছে যে, আমরা আমাদের কাপড় খুলে ওদের পরীক্ষা করতে দিতে বাধ্য হয়েছি।"

কলেজের ছাত্রীনিবাসের কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করেছিল, এসব ছাত্রী নিয়ম ভঙ্গ করছে। সহজাননন্দ গার্লস ইনস্টিটিউটট পরিচালনা করে একটি হিন্দু ট্রাস্ট। যখন মেয়েদের ঋতুস্রাব চলে, তখন তাদের ছাত্রীনিবাসের রান্নাঘরে প্রবেশ করা নিষেধ।

কলেজের একজন কর্মচারি দর্শনা ঢোলাকিয়া বলছেন, "এই মেয়েরা স্বেচ্ছায় রাজি হয়েছিল তাদের ঋতুস্রাব চলছে কিনা সেটি পরীক্ষায়। তখন কলেজের কর্মীরা তাদের পরীক্ষা করেছে। কিন্তু তাদের শরীর কেউ স্পর্শ করেনি। এই মেয়েদের ঋতুস্রাব চলছিল। তারা এর জন্য ক্ষমা চেয়েছে। এখানে মেয়েরাই দোষী, কারণ তারা মিথ্যে বলেছিল।"

ভারতের অনেক অঞ্চলে মেয়েদের ঋতুস্রাবের ব্যাপারটিকে এখনও কতটা ঘৃণার সঙ্গে দেখা হয়, এই ঘটনা তার প্রমাণ। যখন মেয়েদের ঋতুস্রাব চলে, তখন তাদের নোংরা বলে গণ্য করা হয়। ওই সময়ে তাদের প্রার্থনার জায়গাসহ অনেক জায়গাতেই প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। সূত্র: বিবিসি।

 

/এমপি/

লাইভ

টপ