ফাহিম সালেহ হত্যাকাণ্ডযুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া, এখনও গ্রেফতার হয়নি কেউ

Send
ব্রজেশ উপাধ্যায়, ওয়শিংটন
প্রকাশিত : ০৯:৫৬, জুলাই ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২২, জুলাই ১৬, ২০২০

নিউ ইয়র্কে নিজের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে বাংলাদেশের রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাও-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ খুনের ঘটনায় শোকের ছায়া পড়েছে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনও কাউকে শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতিও দেওয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ফাহিম সালেহ ছিলেন একজন সুপরিচিত ব্যক্তি। তার এমন হত্যাকাণ্ডে একইসঙ্গে তাই শোকস্তব্ধ ও হতবাক তারা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্লোবাল ফিনটেক সংস্থা ফ্যামাক্যাশ-এর প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল খন্দকার। এই বাংলাদেশি আমেরিকান বলেন, ‘এটি একটি ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড।’

সাইফুল খন্দকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিনি উদ্যোক্তা দুনিয়ায় সুপরিচিত ছিলেন এবং ইতোমধ্যেই বেশ সফলতা অর্জন করেছিলেন।’

নিউ ইয়র্কে এখন বাংলাদেশি কমিউনিটির আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে এই হত্যাকাণ্ড।

নিউইয়র্কে একজন বাংলাদেশি আমেরিকান স্বাস্থ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছে বাংলা ট্রিবিউন; যার পরিবারের একজন সদস্য ফাহিম সালেহর সঙ্গে কাজ করেছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই বিশেষজ্ঞ বলেন, এই ঘটনা মানুষকে সত্যিই কষ্ট দিচ্ছে। কমিউনিটির মধ্যে একটা অবিশ্বাসের অনুভূতি কাজ করছে।

তিনি বলেন, এটি ঠিক বাস্তব ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। এটি যেন হলিউডের সিনেমার মতো।

পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সালেহর একজন জ্ঞাতি বোন ভবনটি থেকে বের হওয়ার সময়ও ভবনটিতেই অবস্থান করছিল সন্দেহভাজন খুনি। নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়া মাস্ক পরিহিত ওই সন্দেহভাজন আকস্মিকভাবে ভিকটিমের জ্ঞাতি বোনকে দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের দেহাবশেষ বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে ছিন্ন করা হয়েছিল এবং তার দেহের কিছু অংশ প্লাস্টিকের ব্যাগে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

পুলিশের ধারণা, ওই বরাত দিয়েই ফাহিমের দেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এটিকে ‘খুবই কুৎসিত’ হত্যাকাণ্ড বলে আখ্যায়িত করেছে তারা।

নজরদারি ভিডিওতে দেখা গেছে, সালেহর সঙ্গে তার অ্যাপার্টমেন্টের লিফটে আরও এক ব্যক্তি উঠেছিলেন। মাস্ক পরিহিত ওই ব্যক্তির পরনে ছিল কালো রঙ-এর পোশাক।

লিফটে দুই জনের মধ্যে সংক্ষিপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছিল। পরে ফাহিম সালেহর অ্যাপার্টমেন্টমুখী লিফটের দরজা খুললে হামলাকারী তাকে অনুসরণ করে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে।

ঘরের দরজা বন্ধ হওয়ার আগে ভিডিওটিতে সর্বশেষ ওই ব্যক্তিকে একটি টিজার নিয়ে সালেহর ওপর হামলে পড়তে দেখা যায়।

পুলিশ সূত্রকে উদ্ধৃত করে ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন ফাহিম। দীর্ঘ সময় ভাইয়ের কোনও খোঁজ পাননি বলে মঙ্গলবার ৯১১ নম্বরে ফোন করেন তার বোন। এরপর পুলিশ এসে অ্যাপার্টমেন্টের ৭ম তলা থেকে তার খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে। গত বছর ২ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার দিয়ে অ্যাপার্টমেন্টটি কিনেছিলেন তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তা সার্জেন্ট কার্লোস নিভস জানান, ঘটনাস্থলে খণ্ড দেহ, বিচ্ছিন্ন করা মাথা ও হাত-পা পাওয়া গেছে।

মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের সন্তান সালেহ ১৯৮৬ সালে সৌদি আরবে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তিনি বেড়ে ওঠেন নিউ ইয়র্কে। ১৬ বছর বয়সে তার উদ্যোক্তা জীবন শুরু হয়।

তিনি তরুণদের লক্ষ্য করে আইকনডুড ডটকম এবং এআইএমডুড ডটকমের মতো ওয়েবসাইট তৈরি করেছিলেন।

পাঠাও-এর সাফল্যের পর অনলাইন প্রকাশনা প্ল্যাটফর্ম মিডিয়াম ডটকমের একটি পোস্টে তিনি উন্নত দেশগুলোর মানুষের জীবনকে সহজ করে তুলবে এমন পণ্য বিকাশের প্রতি নিজের আগ্রহের কথা জানান।

ফাহিম সালেহর বাবা সালেহ উদ্দিন চট্টগ্রামের, আর মা নোয়াখালীর মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনফরমেশন সিস্টেম পড়াশোনা করতেন ফাহিম। নাইজেরিয়া আর কলম্বিয়ায় তার দুটি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ কোম্পানি রয়েছে। পেশায় ওয়েবসাইট ডেভেলপার ফাহিম অ্যাডভেঞ্চার ক্যাপিটাল গ্লোবাল নামক একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানেরও উদ্যোক্তা ছিলেন।

/এমপি/এমএমজে/

লাইভ

টপ