কংগ্রেস ও বামপন্থীদের জোট হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ২০০ আসনে জিতে পশ্চিমবঙ্গে ফের ক্ষমতায় আসতে চলেছেন। এমনই রিপোর্ট দিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের গোয়েন্দা শাখা বা স্টেট ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (আইবি)। গোয়েন্দাদের হিসাবে, রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস ১৯০ থেকে ২১০টি আসন পাবে। রাজ্য বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা ২৯৪। সেক্ষেত্রে গোয়েন্দাদের হিসেব অনুযায়ী, মমতা প্রায় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে আরও একবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন।
তৃণমূলের একটি সূত্রের খবর হচ্ছে- তাদের নেত্রী ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, কংগ্রেস ও সিপিএম তথা বামপন্থীদের জোট হলেও তার দল ২২০টি আসন পাবে।
আইবি অবশ্য শাসক দলকে অতটা বেশি আসন দিতে পারছে না। আর আইবি কিন্তু ধরেই নিয়েছে, বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট হচ্ছেই। ওই গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যা অবস্থা, তাতে তৃণমূল ২০০-র বেশি আসন পাবে না। তবে আমাদের হিসাবে একটু জায়গা রাখতে হয়। তাই, আমরা ১৯০ থেকে ২১০-এর কথা বলছি।’
চারদিন আগেই ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এ বলা হয়েছিল, সিপিএম-কংগ্রেস জোট হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায় ফেরা আটকানো মুশকিল। ঘটনাচক্রে, তার পরেই কলকাতায় এবিপি নিউজ-এ সি নিয়েলসেনের জনমত সমীক্ষা পূর্বাভাস দিয়েছে যে, বিরোধীদের জোট হোক বা না হোক, তৃণমূলই দ্বিতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় আসছে। নির্বাচনের মুখে এটাই প্রথম কোনও সংবাদমাধ্যমের জনমত সমীক্ষা। যেখানে বিরোধীদের জোট হলে তৃণমূল ১৮২ আর জোট না হলে ১৯৭টা আসন পাবে বলে দেখানো হয়েছে।
আইবি নিয়ম করেই প্রতিটি নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য ফল জানিয়ে রাজ্য সরকারের শীর্ষমহলে রিপোর্ট দেয়। ২০১১-র ভোটের আগে ওই গোয়েন্দা সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের ইঙ্গিত দিয়েছিল, কিন্তু একটু রেখেঢেকে। কারণ, ওই রিপোর্টে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কথা জানিয়ে তখনকার শাসক সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট ১২০টার মতো আসন পাবে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পালাবদলের পূর্বাভাস মিললেও আসনের ওই হিসেব একেবারেই মেলেনি। হাড্ডাহাড্ডি নয়, লড়াই হয়েছিল কার্যত একতরফা আর বামফ্রন্ট মাত্র ৬২টা আসনে জিতেছিল।
এবার আইবি-র মতে, কংগ্রেস-বামফ্রন্ট জোট মমতার তৃণমূলকে রাজ্যের কয়েকটি জেলায় ভালো মতো বেগ দেবে, কিন্তু মমতার প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে পারবে না। আইবি মনে করছে, কয়েকটি জেলায় তৃণমূলের ক্ষতি করবে অন্তর্দ্বন্দ্ব ও গোষ্ঠী কোন্দল, বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায়, যেখানে তৃণমূল গতবার সবচেয়ে ভালো ফল করেছিল। ওই দলীয় কোন্দল তৃণমূলকে মালদহতেও সমস্যায় ফেলতে পারে বলে মনে করছে আইবি। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শাসক দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ওই দুটো জেলায় বিরোধী জোট সুবিধে পাবে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। আবার চা বাগানে শ্রমিকের মৃত্যু মিছিল জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় তৃণমূলকে খানিকটা ধাক্কা দেবে।
তবে আইবি-র দেওয়া পূর্বাভাস অনুয়াযী, নদিয়া, বর্ধমান, বীরভূম, পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুর ও পুরুলিয়া জেলায় তৃণমূল খুব ভালো ফল করবে। কিন্তু জঙ্গলমহলের বাঁকুড়ায় প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ ফল করবে সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে। আবার মোটামুটি ভালো ফল করবে হাওড়া, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর ও কলকাতায়।
/এএইচ/








