যুদ্ধ-সহিংসতার কারণে ২০১৫ সালের প্রথম ছয় মাসে নতুন করে ঘরছাড়া হয়েছেন ৫০ লাখ মানুষ। এদের মধ্যে ৪২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে নিজ দেশেই আছেন। আর সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে যেতে বাধ্য হয়েছেন আট লাখ ৩৯ হাজার মানুষ। সেই হিসেবে বিশ্বে প্রতিদিন ঘরহারা হচ্ছেন ৪ হাজার ৬শ’ জনেরও বেশি মানুষ।
শুক্রবার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এইসব তথ্য। ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এ বছরে যুদ্ধ-সহিংসতা-নিপীড়নের কারণে রেকর্ডসংখ্যক ৬০ কোটি মানুষ অভিবাসনপ্রত্যাশী হিসেবে দেশ ছেড়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে বিশ্বে ১২২ জনের মধ্যে একজন মানুষ নিজ দেশ থেকে অন্যত্র পালাতে বাধ্য হচ্ছে।
সংস্থাটি বলছে, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে শরণার্থীর সংখ্যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও এ বছরের শেষ ছয় মাসের হিসাব করা হয়নি। বছরের শেষ ছয় মাসে এই সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউএনএইচসিআর বলছে, শরণার্থীর এই সংখ্যা বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ। শুধুমাত্র এই কারণে বছরের প্রথম ছয় মাসে সিরিয়ার ৪২ লাখ মানুষ শরণার্থী হয়েছে। সিরিয়ার ওই ঘটনা বাদ দিলে ২০১১ থেকে ২০১৫—এই চার বছরে বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার মাত্র ৫ শতাংশের মতো হতো।
ইউএনএইচসিআর-এর হিসেবে প্রায় ১০ লাখ মানুষ এ বছর ভূমধ্যসাগর সংলগ্ন দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। সিরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধ আর অন্য দেশগুলোতে দুর্ভোগের কারণে বেশি সংখ্যক মানুষ অন্যত্র চলে যাচ্ছে। অন্য দেশে চলে যাওয়া এই প্রবণতা অব্যাহত থাকার কারণে এ বছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বছর শেষে এ সংখ্যা ৬০ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর পাঁচ কোটি ৯৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যায়।উল্লেখ্য, এ বছরের জুন পর্যন্ত সারা বিশ্বে দুই কোটি দুই লাখ মানুষ বাস করছে শরণার্থী হিসেবে । সবশেষ ২০১১ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৪৫ শতাশের বেশি মানুষ এখন শরণার্থী। সূত্র: ইউএনএইচসিআর
/বিএ/








