প্রথাগত খ্রিস্টান মৌলবাদকে ব্যঙ্গ করে জন্ম হয়েছিল চার্চ অব ফ্লাইং স্প্যাগেটি মনস্টার (সিএফএসএম) মতবাদের। এ মতবাদের অনুসারীদের বলা হয় পাস্তাফারিয়ান। শুধু ধর্মীয় বিষয়ে ব্যঙ্গ নয় তাদের রীতিনীতিতে প্রচলিত বিয়ের ধারণাকেও ব্যঙ্গ করা হয়েছে। পাস্তাফারিয়ান বিয়ে আয়োজিত জলদস্যু স্টাইলে। বর-কনে থেকে শুরু করে অতিথিরা সবাই পরেন জলদস্যুর পোশাক। আর বিয়ে আয়োজনও করা হয় জলদস্যুর জাহাজে।
আর আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার নিউ জিল্যান্ডে প্রথমবারের মতো এমন পাস্তাফারিয়ান বিয়ে অনুষ্ঠিত হল। ব্রিটিশ নাগরিক টবি রিকেটস ও নিউ জিল্যান্ডের বাসিন্দা মারিয়ানা ফেন পাস্তাফারিয়ান রীতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। ২০১৫ সালে নিউ জিল্যান্ড পাস্তাফারিয়ান বিয়েকে আইনি মর্যাদা দেওয়ার পর এটাই প্রথম বিয়ের অনুষ্ঠান।
আরও পড়ুন: যাত্রীবাহী বিমানে ড্রোনের আঘাত!
টবি রিকেটস ও মারিয়ানা ফেন প্রায় চার বছর ধরে যৌথ জীবন যাপন করছেন। বিয়ে করার কোনও পরিকল্পনা তাদের ছিল না। কিন্তু নিউ জিল্যান্ড এই ধরণের বিয়েকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ায় তারা এ সিদ্ধান্ত নেন।
রিকেটস একজন ভয়েসওভার আর্টিস্ট হিসেবে একটি প্রামাণ্যচিত্রে কাজ করছেন। প্রামাণ্যচিত্রটির নাম ‘গড ডাজন’ট পে ট্যাক্স।’ এই ছবিতে বিকল্প ও ক্রমবর্ধমান কিছু ধর্ম ও মতবাদ নিয়ে কাজ করা হয়েছে। তিনি খ্রিস্টান হিসেবে বেড়ে উঠলেও ১৭ বছর বয়সে চার্চ ত্যাগ করেন।
রিকেটস বলেন, ‘আমাদের জন্য বিয়ে করা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছিল না। আমরা ইতোমধ্যেই পরস্পরের প্রতি গভীরভাবে সমর্পিত। কিন্তু এই সুযোগে আমরা ধর্মীয় মতবাদের বিষয়টি উদযাপন করতে পারলাম। ঐতিহ্যের চর্চার মাধ্যমেই বিয়ের অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।’
এ ধরণের বিয়ের অনুষ্ঠান জলদস্যুর পোশাক ও জাহাজের ওপর আয়োজিত হয়। বিয়েতে খেতে দেওয়া হয় স্প্যাগেটি, রুটি ও মিটবল। বর-কনে ছাড়াও অভ্যাগতরা সজ্জিত থাকেন জলদস্যুর পোশাকে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় রিকেটস পাস্তা দিয়ে তৈরি আংটি পরিয়ে দেন ফেনকে। বিয়ের অঙ্গীকারের রিকেটস প্রতিশ্রুতি দেন, স্প্যাগেটি সেদ্ধ করার সময় সর্বদাই লবন দেবেন। এ সময় বর-কনের উভয়েরই চোখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিলো।
ফেন বলেন, ‘এটা ছিল খুব আনন্দের বিয়ে। রোমান্টিকও ছিল অবশ্য। এটা শুধু গুরু গম্ভীর ও ব্যয়বহুল কিছু ছিল না, যেমন এখন বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো হয়। খুব বড় বিয়ের পোশাক আমাকে কখনও আকর্ষণ করেনি, কিন্তু এটাতে আমি আকর্ষণ বোধ করেছি।’
এই দম্পতি জানান, বিয়েতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৪৬০ ইউরো। নিজেদের খেতের ১৫ কেজি টমেটো দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করেছেন তারা।
এই মতবাদে বিশ্বাসীরা মনে করেন, স্প্যাগেটি আর মিটবল দিয়ে তৈরি ঈশ্বরও অন্য কোনও ঈশ্বরের চেয়ে কোন অংশে কম নন। চার্চ অব ফ্লাইং স্প্যাগেটি মনস্টারের ওয়েবসাইটে বলা হয়, ইতোমধ্যে এই বিয়ের অনুষ্ঠানকে সমালোচনা করে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আমরা বলতে চাই, বিয়ে উদযাপন দুটো মানুষের বিষয়। কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে বিবৃতি নয়।
এই দম্পতি প্রথম পাস্তাফারিয়ান বিয়ে করলেও সিএফএসএম বিয়ের নিবন্ধক কারেন মার্টিন জানান, এ বছর আরও বেশ কয়েকটি বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/ইউআর/এএ/








