রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের আংশিক ফলাফলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সমর্থিত দল ইউনাইটেড রাশিয়া এগিয়ে রয়েছে। রবিবার নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে গণনা শুরু হয়। মোট ভোটের ৭৫ শতাংশ গণনার পর দেখা গেছে ইউনাইটেড রাশিয়া ৫৪ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, প্রায় অর্ধেক ভোট গণনার পর প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, এগিয়ে রয়েছে ইউনাইটেড রাশিয়া। এরপর ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেয়ে রয়েছে ডানপন্থী দল এলডিপিআর এবং ১৪ দশমিক ২ শতাংশ নিয়ে রাশিয়ান কমিউনিস্ট পার্টি। ৬ দশমিক ২ শতাংশ নিয়ে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে ফেয়ার রাশিয়া।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া আরও দশটি দল পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করার মতো ভোট পায়নি। তবে এসব দলের অনেক প্রার্থী নিজ আসনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টের সদস্য হতে পারবেন।
রবিবার রাশিয়ার পার্লামেন্টারি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সমপন্ন হয়। নির্বাচনের আগেই ধারণা করা হয়েছিল প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশ্বস্ত দলগুলো এবারও আধিপত্য ধরে রাখবে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে সেই ধারণাই সঠিক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ভোটের আগে জনমত জরিপ ও ভোটের পর এক্সিট পোলেও এগিয়ে ছিল ইউনাইটেড রাশিয়া।
এবার প্রথমবার ক্রিমিয়ায় পার্লামেন্টারি নির্বাচন করছে রাশিয়া। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়াকে ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন করে রুশ ফেডারেশনে যুক্ত করে রাশিয়া সরকার। ক্রিমিয়ায় নির্বাচন করা নিয়ে রাশিয়ার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইউক্রেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়ানা বেস্তা জানিয়েছেন, তাদের দেশে কিছুতেই রাশিয়ার নির্বাচন হবে না- রাশিয়ার কূটনৈতিক ও কনস্যুলার ভবনেও না।
রাশিয়ার পার্লামেন্টের নাম ডুমা। জনগণের ভোটে এর নিম্নকক্ষের ৪৫০ জন সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন। গত বছর নিম্নকক্ষে পুতিনের বিরোধী হাতেগোনা কয়েকজন সংসদ সদস্য ছিলেন।রবিবারের নির্বাচনে এবার অংশ নিয়েছে মোট ১৪টি দল। পাঁচ বছর আগে অনুষ্ঠিত আগের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল এর অর্ধেকের মতো দল। ভোটদান শুরুর আগে টেলিভিশনে এক বক্তব্যে পুতিন বলেছিলেন, প্রত্যেক প্রার্থী ‘সুষ্ঠু ও অবাধ প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সমান পরিস্থিতি’ পাবেন।
বেশ কয়েক বছর ধরে অস্থিরতার পর দেশজুড়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত নির্বাচনের পর রাশিয়াকে অনেক ঘটনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়া দখল,স্নায়ু যুদ্ধের অবসানের পর পশ্চিমাদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো, তেলের মূল্যহ্রাসের ফলে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি ও সিরিয়ায় সামরিক অভিযান শুরু করেছে দেশটি।
২০১১ সালের সর্বশেষ পার্লামেন্টারি নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। নির্বাচনের পর মস্কোর সড়কে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। রাশিয়ার রাজনীতিতে পুতিনের ১৬ বছরের আধিপত্যের বিরুদ্ধে সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এবারের নির্বাচনকে পুতিন ও শাসকদল ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির জনপ্রিয়তার পরীক্ষা বলে মনে করা হয়েছিল।দলের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ। সূত্র: বিবিসি, আরটি।
/এএ/








