রাশিয়ার কূটনীতিকরা কাবুল দখলকারী তালেবানদের ‘সাধারণ মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দাবি করছেন, আফগান রাজধানী এখন আগের চাইতে নিরাপদ।প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, আফগানিস্তানের ওপর তালেবানের নিয়ন্ত্রণ কায়েম হচ্ছে এই বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে।অনেক বিদেশি দূতাবাসের মতো রাশিয়া কাবুলে তাদের দূতাবাস বন্ধ করেনি এবং তালেবান নেতাদের প্রতি তাদের বক্তব্য ছিল বেশ উষ্ণ। ফলে আফগানিস্তানে তালেবান রাশিয়ার নতুন বন্ধু হিসেবে অনেকেই বিবেচনা করছেন। তবে এত কিছুর পরও রাশিয়ার সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় এখনও রয়েছে তালেবানের নাম।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাশিয়া এই মুহূর্তে তালেবানকে আফগানিস্তানের বৈধ শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। তবে তালেবানের প্রতি মস্কোর সরকারের মনোভাব বেশ নরম হয়েছে। রাশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা টাস তাদের প্রতিবেদনে চলতি সপ্তাহ থেকে তালেবানকে বর্ণনা করতে গিয়ে 'সন্ত্রাসবাদী' শব্দের জায়গায় 'কট্টরপন্থী' শব্দটি ব্যবহার করছে।
আরেকটি রুশ সংবাদমাধ্যম স্পুটনিক নিউজ এখনও তালেবানকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করছে। তবে রুশ সরকার বেশ কিছুদিন ধরেই ধীরে ধীরে তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছিল।
রাশিয়া যেসব দেশ ও প্রতিষ্ঠানকে সন্ত্রাসবাদী ও নিষিদ্ধ সংগঠন বলে মনে করে তালেবান ২০০৩ সাল থেকে সেই তালিকার শীর্ষে ছিল। কিন্তু তালেবানের প্রতিনিধিরা ২০১৮ সাল থেকে আলোচনার জন্য নিয়মিতভাবে মস্কোতে যাচ্ছিলেন।
কাবুল দখলের পর রুশ প্রেসিডেন্টের আফগানিস্তান-বিষয়ক দূত জমির কাবুলভ অবশ্য বলেছেন, তালেবানকে আফগানিস্তানের বৈধ কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে তাড়াহুড়া করবে না মস্কো।
তালেবানের সঙ্গে সখ্যতা থাকার পরও মস্কোর সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে- তারা আফগানিস্তানের ঘটনাবলীর দিকে নজর রাখছে এবং সন্ত্রাসবাদীর তালিকা থেকে তালেবানের নাম এখনই কেটে দিচ্ছে না।
পুতিন বলেছেন, তালেবান তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করবে এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করবে বলে তিনি আশা করেন। সূত্র: বিবিসি









