ইউক্রেনে তিন দফায় কিঞ্জল হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহারের দাবি করেছে রাশিয়া। রবিবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু এমন দাবি করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।
রাশিয়ার রসিয়া-১ টিভি চ্যানেলের সঙ্গে আলাপকালে সের্গেই শোইগু বলেন, তিন বার বিশেষ সামরিক অভিযানে কিঞ্জল হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে চমৎকার ফল মিলেছে।
হাইপারসনিক মিসাইল বলতে শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ দ্রুত গতিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র বোঝানো হয়। কিঞ্জল হলো রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন হাইপারসনিক এয়ার-টু-সার্ফেস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর রেঞ্জ দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি।
রুশ বাহিনী ইউক্রেনে পঞ্চম প্রজন্মের এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে বলেও দাবি করেন সের্গেই শোইগু।
এদিকে ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলে দেশটির একটি গোলাবারুদের গুদাম ধ্বংসের দাবি করেছে রাশিয়া। এটিতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি হিমার্স রকেট ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পশ্চিমা বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ছিল বলে দাবি মস্কোর। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফে এমন দাবি করা হয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, তাদের কালিব্র ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে গোলাবারুদের গুদামটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খেরসন অঞ্চলে দুইটি এম৭৭৭ হাউইটজার ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলে ইউক্রেনের একটি জ্বালানি ডিপোও ধ্বংস করা হয়েছে, যেটিতে ১০০ টনেরও বেশি ডিজেল ছিল।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরু হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির মিত্ররা ইউক্রেনকে কয়েকশ’ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করেছে। এগুলোর মধ্যে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট ব্যবস্থাও রয়েছে। কিয়েভের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে এসব অস্ত্রের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে রাশিয়ার অন্তত ৩০টি সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ রাখার স্থানে সফলভাবে হামলা চালানোর দাবি করেছে কিয়েভ। এসব হামলায় পশ্চিমাদের পাঠানো একাধিক মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে।









