ব্রিটেনে তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিরা

মুনজের আহমদ চৌধুরী, লন্ডন
১১ আগস্ট ২০২৫, ১১:১৩আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৫, ১১:১৩

ইংল্যান্ডে গরমের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিম্ন আয়ের এবং সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তীব্র তাপের জন্য অনুপযুক্ত আবাসনের কারণে তাদের কষ্ট বাড়ছে বলে সদ্য প্রকাশিত একটি বিশেষ গবেষণা থেকে জানা গেছে।   

রিস‌লিউশন ফাউন্ডেশনের এই গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রিটিশ বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য ঝুঁকিটা বেশি, বিশেষ করে যারা পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের মতো এলাকার ফ্ল্যাটগুলোতে বসবাস করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইংল্যান্ডের সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের প্রায় অর্ধেক এমন বাড়িতে বাস করে যেখানে তাপমাত্রার সামান্য বৃদ্ধিতেও অত্যধিক গরম লাগে। এই ঝুঁকি ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের তুলনায় তিনগুণ বেশি। এই বৈষম্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর পরিবারগুলোর মধ্যে আরও প্রকট, যাদের প্রায় অর্ধেকই অত্যধিক তাপের ঝুঁকিতে রয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর ভয়াবহ পরিণতি দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে লন্ডনে যা ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাবের শিকার। লন্ডনের অর্ধেকেরও বেশি বাড়ি অত্যধিক গরম হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে রাজধানীর বাইরে এই হার মাত্র ৩১ শতাংশ। এই সমস্যা জনবহুল এলাকায় সবচেয়ে গুরুতর।

দশকের পর দশক ধরে গবেষণায় দেখা গেছে, দরিদ্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, যার মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও অন্তর্ভুক্ত তারাই জলবায়ু সংকটে অসমভাবে প্রভাবিত হয়। পূর্ব লন্ডনে সবুজ স্থানের অভাব, ফ্ল্যাটের উচ্চ ঘনত্ব এবং অতিরিক্ত ভিড়ের মতো সমস্যাগুলো এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ বাংলাদেশি পরিবারগুলো শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ পরিবারগুলোর তুলনায় ১২ গুণ বেশি অতিরিক্ত ভিড়ে বাস করে। এই ধরনের ঘনবসতিপূর্ণ, দুর্বল বায়ুচলাচল যুক্ত ফ্ল্যাটগুলো বিপজ্জনকভাবে গরম হয়ে ওঠে, যা পরিবারগুলোকে আটকে ফেলে এবং তাদের স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞরা ভবন নির্মাণের নিয়মে জরুরি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান নিয়মগুলো শীতকালে বাড়ি গরম রাখার ওপর জোর দিলেও, গ্রীষ্মে তাপের ক্রমবর্ধমান বিপদ মোকাবিলায় ব্যর্থ হচ্ছে।

সরকার যখন তাদের ‘ভবিষ্যৎ গৃহ মান’ নিয়ে কাজ করছে, তখন বাড়ি ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা, যেমন: উন্নত বায়ুচলাচল, বাইরের শাটার এবং রাস্তার পাশে আরও বেশি গাছ লাগানোর মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

অনেক ব্রিটিশ বাংলাদেশি পরিবারের জন্য এই পরিবর্তনগুলো কেবল আরামের বিষয় নয়, বরং নিরাপত্তা এবং টিকে থাকারও বিষয়।

/এস/
সম্পর্কিত
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
সর্বশেষ খবর
বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান, নিয়োগ পেলেন তিন কমিশনার
বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান, নিয়োগ পেলেন তিন কমিশনার
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয়ে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয়ে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ড
ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ড
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের