যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামার শাসনামলে কিউবার কুখ্যাত মার্কিন কারাগার গুয়ানতানামো বে থেকে সর্বাধিক সংখ্যক বন্দিকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ কারাগার থেকে দীর্ঘদিন ধরে আটক থাকা ১৫ বন্দিকে সোমবার স্থানান্তর করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে সোমবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে বন্দিদের স্থানান্তরের ঘোষণা দেওয়া হয়। সোমবার ১৫ জনকে স্থানান্তরের ফলে এখন গুয়ানতানামোতে আটক বন্দির সংখ্যা নেমে এসেছে ৬১ জনে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাত স্থানান্তরিত বন্দিদের গ্রহণ করেছে। এবার স্থানান্তরিত বন্দিদের মধ্যে ইয়েমেনের ১২ জন ও আফগানিস্তানের ৩ জন নাগরিক রয়েছেন। এসব বন্দিদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ১৪ বছরেরও বেশি সময় গুয়ানতানামোতে আটক আছেন।
এর আগেও আরব আমিরাত গুয়ানতানামোর বন্দিদের গ্রহণ করেছে। পেন্টাগন আমিরাতের এ মানবিক সহযোগিতাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
সোমবার স্থানান্তরিতদের মধ্যে ৬ বন্দিকে গুয়ানতানামো থেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুমোদন পান ২০১০ সালে। ওবামা প্রশাসনের পর্যালোচনায় তাদেরকে এ কারাগার থেকে সরিয়ে নেওয়া উপযুক্ত এবং সামরিক বিচারের অনুপযুক্ত বলে মনে করা হয়। এ ছয় বন্দি হলেন, আবদেল কাদির আল-মুদাফারি, মুহাম্মদ আহমদ সাইদে আল-আদাহি, আবদুল মোহাম্মদ আহমদ নাসার আল-মুহাজারি, আব্দ আল-রহমান সুলায়মান, মোহাম্মদ নাসির ইয়াহি খুশরফ কাজাজ ও আব্দ আল-মুহসিন আব্দ আল-রব সালিহ আল-বুসি।
এই ছয় ব্যক্তিই ইয়েমেনের নাগরিক। বেশ কয়েক বছর ধরে ইয়েমেনের অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং গৃহযুদ্ধ চলমান থাকায় তাদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়।
২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ওবামা প্রশাসনের পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ায় অপর ৯ বন্দিকেও নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করা হয়নি। তারা হলেন, মোহাম্মদ কামিন, মাহমুদ আব্দ আল আজিজ আল-মুজাহিদ, সাইদ আহমেদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সারেম জারাব, জাহার ওমর হামিস বিন হামদৌন, মাজিদ মাহমুদ আব্দু আহমেদ, আইয়ুব মুর্শিদ আলি সালিহ, ওবাইদুল্লাহ, বশির নাসির আলি আল-মারওয়ালাহ ও ৫০ বছরের আফগান নাগরিক হামিদ আল-রাজাক ওরফে হাজি হামিদুল্লাহ।
২০০৮ সালে তিন আফগান নাগরিকের মধ্যে ওবায়দুল্লা ও কামিনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়। পরে এ অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়। বাকি ১৩ বন্দিকে কোনও অপরাধের অভিযোগ ছাড়াই এক দশকেরও বেশি আটক রাখা হয়।
দায়িত্ব নেওয়ার পরই ওবামা ঘোষণা দিয়েছিলেন গুয়ানতানামো বে কারাগার বন্ধ করার। কিন্তু প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে চলে আসলেও ওবামা তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই গ্রীষ্মে গুয়ানতানামো থেকে বন্দি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে।
এর আগে জানুয়ারি মাসে ওমানে ১০ ইয়েমেনি নাগরিক, এপ্রিলে আরও ৯ ইয়েমেনিকে সৌদি আরবে স্থানান্তর করা হয়।
নাইন ইলেভেন হামলার পরের বছর ২০০২ সালে বুশ প্রশাসন কারাগারটি প্রতিষ্ঠা করে। কারাগারটি প্রতিষ্ঠার পর যুক্তরাষ্ট্রের চোখে সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তি অথবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুমকি বলে মনে হয় এমন ৭৮০ জনকে সেখানে বন্দি রাখা হয়।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এএ/








