বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের মালিকানাধীন দ্বীপের ওপর দিয়ে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর দুইটি বোমারু বিমান ওড়ার খবর জানা গেছে। বি-৫২ বিমানগুলো একটি প্রশিক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে দ্বীপ দুটির ওপর দিয়ে উড়ে যায়। সেনাসূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এখবর জানিয়েছে।
সিএনএন জানায়, বোমারু বিমানগুলো গুয়াম দ্বীপে অবস্থিত অ্যান্ডারসন বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল। জাপানের ওকিনাওয়ার কাছে এফ-১৫ স্ট্রাইক ঈগল জঙ্গি বিমানও ওই বি-৫২ বোমারু বিমানগুলোর সঙ্গে মহড়ায় অংশ নিয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগর এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষার বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএস প্যাসিফিক এয়ার ফোর্সের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রশিক্ষণমূলক বিমান যাত্রাটি ওই অঞ্চলে সব সময় বোমারু বিমানের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ‘রুটিন কাজের’ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সিএনএনকে যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোমারু বিমানগুলো দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জে চীনের দাবি করা দুটি এলাকা দিয়ে উড়ে গেছে। চীন ওই বিমানগুলোকে বাধা দেওয়ার কোনও চেষ্টা করেনি।
দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত ওই দ্বীপপগুলোর মালিকানা দাবি করে চীন। দেশটির প্রতিবেশী ও যুক্তরাষ্ট্র এই দাবিকে স্বীকৃতি দেয়নি। স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে চীন সেখানে কৃত্রিম দ্বীপও তৈরি করেছে। এদের কয়েকটিতে চীনের সামরিক স্থাপনাও রয়েছে। এভাবে কৃত্রিম দ্বীপ সৃষ্টি করে তাতে চীনের সামরিক স্থাপনা বানাবার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনের মনোনীত সেনা কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল ফিলিপ ডেভিডসন কংগ্রেসের এক শুনানিতে জানিয়েছিলেন, দক্ষিণ চীন সাগরের আধিপত্য বিস্তার করতেই দ্বীপগুলোতে সামরিক স্থাপনা বসিয়েছে চীন। তিনি বলেন, ‘চীন দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ চীন সাগরকে তাদের নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। এটা আমার বিশ্বাস, তারা এমন সামরিক স্থাপনা নির্মাণ করতে চায় যাতে ওই এলাকার নৌ ও আকাশ পথ তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’
আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সামনে ওই একই শুনানিতে রিপাবলিকান সিনেটর জেমস ইনহোফ বলেছিলেন, ‘সেখানে তৈরি করা প্রত্যেকটি দ্বীপ শুধু সামরিক কাজে নির্মিত। আমরা জানি সেখানে রানওয়ে আছে, কামান আছে– সামরিক কাজে দরকার এমন সব কিছুই আছে সেখানে। আর বিষয়টি আতঙ্কজনক।’








