মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনাকারীদের পার্সেলে বোমা পাঠানোর ঘটনায় শনিবার (২৭ অক্টোবর) একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি ফ্লোরিডার বাসিন্দা। তার নাম সিজার সাইওক (৫৬)। পার্সেলে থাকা আঙুলের ছাপ ব্যবহার করেই সাইওককে সানাক্ত করা গেছে। তাছাড়া ডিএনএ ও মোবাইল ফোনের তথ্য ব্যবহৃত হয়েছে তাকে গ্রেফতারে। সাইওক ট্রাম্পের ভক্ত। তার গাড়ি জুড়ে সাঁটানো ট্রাম্পের বিভিন্ন পোস্টার। একটি পোস্টারে দেখা যাচ্ছে হিলারি ক্লিনটনকে গুলি করার জন্য নিশানা ঠিক করা হয়েছে। আরেকটিতে দেখা যাচ্ছে ট্যাংকের ওপর বিজয়ীর ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ডাকযোগে অন্তত ১৪টি ‘বোমার পার্সেল’ পাঠানোর সূত্রে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার ফলে ৪৮ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে তার।
২০০২ সালেও বোমা হামলার হুমকি দিয়ে একবার গ্রেফতার হয়েছিল অভিযুক্ত ব্যক্তি। অবশ্য সেটাই প্রথম নয়। ১৯৯১ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে চুরি, প্রতারণা থেকে শুরু করে শারীরিকভাবে আঘাতের অভিযোগ দায়ের হয়ে আসছে। ২০১২ সালে সাইওক নিজেকে আর্থিকভাবে দেউলিয়া ঘোষণার জন্য আবেদন করে। সে রিপাবলিকান পার্টির একজন নিবন্ধিত সমর্থক এবং ২০১৬-২০১৭ সালে ট্রাম্পের বিভিন্ন সমাবেশে অংশ নিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ‘এতে কোনও দোষ নেই। সে অন্যদের চেয়ে আমাকে বেশি পচ্ছন্দ করে।’ ট্রাম্পের বক্তব্যে প্রভাবিত হয়েই সাইওক সমালোচকদের বোমা পাঠানোর মতো কাণ্ড ঘটিয়েছে কি না সে প্রসঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, এমন কিছু হয়নি। কিন্তু এসব বোমার একজন প্রাপক সাবেক গোয়েন্দা জেমস ক্ল্যাপার মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প সরাসরি সাইওককে কিছু করতে না বললেও, যুক্তরাষ্ট্রে কথাবার্তা বলার ভদ্রতার রীতি ক্ষুণ্ন করেছেন ট্রাম্প।
ঘটনার শুরু গত বুধবার (২৪ অক্টোবর)। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বরাক ওবামা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ঠিকানায় পার্সেলে করে ‘বোমা সদৃশ বস্তু’ পাঠানোর খবর জানা যায় ওই দিন। এরপর একে একে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইদেন, নায়ক রবার্ট ডি নিরোসহ আরও অনেকের ঠিকানাতেই যায় হলুদ খামে মোড়া সন্দেহজনক বস্তুটি। বাদ যায়নি সংবাদমাধ্যম সিএনএনও। অন্তত একটি ঘটনায় পার্সেল থেকে বোমা পাওয়া গেছে। যাদের নামে এসব পার্সেল পাঠানই হয়েছে তারা সবাই ট্রাম্প বিরোধী হিসেবে পরিচিত এবং প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করেন।
সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে একজন বোমা বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, বোমা যেভাবে বানানো হয়েছে তা দেখে মনে করা যেতে পারে, সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে খুব গভীর কোনও ধারণা নেই। কিন্তু প্রাণ নেওয়ার ক্ষেত্রে এমন বোমার কার্যকারিতা উপেক্ষণীয় নয়। এদিকে তার সমালোচকদের কাছে বোমা পাঠানোর ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, এর জন্য দায়ী সংবাদমাধ্যম। তাদের ভুয়া খবর পড়েই মানুষ ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেছে! অবশ্য পরে সুর পাল্টেছেন তিনি। সমালোচকদের ঠিকানায় বোমা পাঠানোর ঘটনাকে তিনি ‘ঘৃণ্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন!








