কেনটাকিতে টর্নেডো: যন্ত্রণা, উদ্বেগ এবং বেঁচে থাকার কৃতজ্ঞতা

বিদেশ ডেস্ক
১২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭:১৭আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭:১৭

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গির্জা। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে আদালত। একটি কোম্পানির এক ভবনে তাদের ট্রাক পার্কিং করা ছিল তা যেনও বাষ্পীভূত হয়েছে– সঙ্গে নিয়ে গেছে সেখানে থাকা যানবাহনগুলো।

আর মোমবাতি কারখানাটি এখন ছিড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভাঙা টুকরোর বেশি কিছু না। এক সময় এটি যে একটি কারখানা ছিল তার ইঙ্গিত শুধু ভ্যানিলা ও ল্যাভেন্ডারের ঘ্রানে পাওয়া যায়। মোমবাতি তৈরিতে ব্যবহৃত সব রাসায়নিক পদার্থ উড়িয়ে নিয়েছে শক্তিশালী বাতাস।

শনিবার সন্ধ্যায় মোমবাতি কারখানায় দাঁড়িয়ে আছেন ৩৭ বছর বয়সের জো ক্রেনশ। আশা করছেন ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া কারও সন্ধান পেলে সাহায্য করবেন। তিনি বলেন, আমি জানি না কীভাবে মেফিল্ড পুনর্গঠিত হবে।  

কেনটাকির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মেফিল্ড। এখানে মোটামুটি ১০ হাজার মানুষের বাস। গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ার এই টর্নেডোকে অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, মোমবাতি কারখানায় কর্মরত ১১০ জনের মধ্যে মাত্র ৪০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

কিন্তু শহরজুড়ে যন্ত্রণা ও উদ্বেগ থাকলেও পাশাপাশি বেঁচে থাকার কৃতজ্ঞতাবোধও বিজার করছে। রাতে কারখানায় কাজ করার কথা ছিল ২৫ বছর বয়সী জামাল মরগ্যানের। তিনি বলেন, ঈশ্বরের কৃপায় আমি দেরিতে ঘুম থেকে উঠি।

তার দুই ছেলেও এই কারখানাতে চার বছর ধরে কাজ করছেন। তিনি জানান, সামনে বড়দিন থাকায় তার ছেলেরা ওভারটাইম করছে কিছু অতিরিক্ত ডলার উপার্জনের জন্য। কিন্তু তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। পরে গাড়ি নিয়ে বাড়ি চলে আসেন।

 শনিবার মেফিল্ডের সড়কগুলো বিদ্যুৎ, টেলিফোনসহ বিভিন্ন সেবার তারের জঞ্জালে পরিণত হয়। রাস্তায় গাছের ডালপালা, লোহা ও কাঠের টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

একটি ধ্বংসস্তূপে কয়েকজন নিজেদের পোশাক ও গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী খুঁজছেন। এক সময় এই ধ্বংসস্তূপ ছিল তাদের বাড়ি।

ডাশান্ট্রে কুপার (২৫) বলেন, এই টর্নের্ডো মেফিল্ডকে গড়ে তুলবে অথবা ধ্বংস করবে। শুধু শক্তি দিয়ে এই অবস্থা থেকে উত্তররণ ঘটানো যাবে না।

মেফিল্ড হাই স্কুল রাগবি দলের রানিং বেক কিল্যান গলব্রেথ জানান, তিনি ভয়ে কুকুরের সঙ্গে ক্লজেটে লুকিয়ে ছিলেন। তার ৬ ও ৮ বছর বয়সী ছোট ভাইয়েরা মায়ের ক্লজেটে লুকিয়ে ছিল। টর্নেডো মাত্র পাঁচ থেকে দশ মিনিট ছিল। ক্লজেট থেকে বের হয়ে দেখেন ঘরের দরজা নেই, অনেক স্থানে নেই ছাদ।

কিল্যান বলেন, সবাই খুব ভয় পেয়েছে। আমিও ভয় পেয়েছি। ক্ষয়ক্ষতির কথা তখন আমরা ভাবিনি। বেঁচে থাকাতেই আমরা খুশি ছিলাম।  সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

/এএ/
সম্পর্কিত
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম