মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মতি দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন কিনা, তা তিনি নিশ্চিত নন। এর ফলে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে কিনা, তাও তিনি জানেন না বলে দাবি করেছেন। শুক্রবার (৪ অক্টোবর) হোয়াইট হাউজে প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাইডেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
বাইডেন বলেন, ‘নেতানিয়াহু নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন কিনা আমি জানি না - কিন্তু আমি এটার ওপর নির্ভর করছি না।’
এরপর তিনি তার দীর্ঘদিনের মিত্রের প্রতি কড়া মন্তব্য করেন। বলেন, ‘কোনও প্রশাসন ইসরায়েলকে আমার চেয়ে বেশি সহায়তা করেনি। কেউ, কেউ, কেউ না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি নেতানিয়াহুর এটি মনে রাখা উচিত।’
কিছু ডেমোক্র্যাট নেতানিয়াহুর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বলছেন, তিনি যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির জন্য বাইডেনের আহ্বান উপেক্ষা করছেন, যাতে নভেম্বরের নির্বাচনে দলের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিকভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি বাইডেন ও ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীর জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে।
গত এক বছরে আরব-আমেরিকানদের মধ্যে বাইডেনের গ্রহণযোগ্যতার হার ব্যাপকভাবে কমেছে, যার মূল কারণ হলো ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে মার্কিন সমর্থনের প্রতি অসন্তোষ। এটি নভেম্বরের নির্বাচনে দলের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বাইডেন কয়েক মাস ধরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য চাপ দিচ্ছেন এবং তিনি বেশ কয়েকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শিগগিরই যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো যাবে। নির্বাচনের আগে একটি চুক্তি প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য বড় সাফল্য হতে পারতো। কিন্তু এটি ক্রমশ অসম্ভব হয়ে উঠছে।
যদিও বাইডেন প্রশাসন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চুক্তি না হওয়ার জন্য হামাসকে দোষারোপ করেছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট বাইডেন সম্প্রতি নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, নেতানিয়াহু চুক্তির বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
সেপ্টেম্বরে বাইডেন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, চুক্তিটির প্রায় ৯০ শতাংশই সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ও শিগগিরই এটি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। চুক্তি না হওয়ার বিষয়টিতে কমলা হ্যারিসকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। ট্রাম্পের দাবি, প্রসিডেন্ট হলে শিগগিরই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন তিনি।
এদিকে ইসরায়েল গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে। দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান চালিয়েছে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় প্রতিশোধমূলক আক্রমণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যদিও ইসরায়েলের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিরোধিতাও করেছেন বাইডেন।
তবে এতোকিছুর পরও ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে বাইডেন প্রশাসন।








