জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকদেরনিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ছয়দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। এই ছয় দফা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়ের করা ‘চিকিৎসকের অবহেলায় রোগী মৃত্যু’র মামলাটির কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন, পৃথক স্বাস্থ্য পুলিশ বাহিনী গঠন, চিকিৎসকদের জন্য একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন, সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃক দায়ের করা এজাহার মামলা হিসাবে গ্রহণ করে দ্রুত তা বিজ্ঞ আদালতে চলমান রাখা এবং চিকিৎসকদের পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় গঠন। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান।
চিকিৎকস নেতারা বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন চিকিৎসকরা। তারা অপমানিত হতে চান না। দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিতে গেয়ে তারা যেন আক্রান্ত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসকদেরও ভুল হতে পারে। যদি কোনও চিকিৎসকের ভুল নিশ্চিত হয়, তাহলে তার বিচার হবে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ও প্রচলিত আইনের মাধ্যমে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতাল ও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক ও চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানের উপর হামলায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিএমএ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখে সংগঠনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহাসচিব ডা. মো ইহতেশামুল হক চৌধুরী।
বিএমএ নেতারা বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা অধিদফতরের কোনও কর্মকর্তা আমাদের কোনও খবর নেননি। দেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠনের প্রতি তাদের উদাসীনতায় আমরা বিস্মিত ও হতবাক। তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনায় মন্ত্রণালয় কিংবা অধিদফতরের কর্তাব্যক্তিরা কোনও ভূমিকাই রাখেন না। আর সেন্ট্রাল হাসপাতালে শিক্ষার্থী মৃত্যুর পরের দিন কয়েকটি পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে প্রচারিত চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু বলে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করায় দেশের ৭০ হাজার চিকিৎসককে অপমানিত, ক্ষুব্ধ ও নিরাপত্তাহীন করে তোলে।
তারা আরও বলেন, কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দেওয়া ও নাগরিক হিসেবে সবার কর্মস্থল নিরাপদ রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ অর্থ্যাৎ স্বাস্থ্য কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে ছিল নির্বিকার।
লিখিত বক্তব্যে বিএমএ মহাসচিব বলেন, সেন্ট্রাল হাসপাতালের দায়ের করা এজাহারটিকে মামলা হিসাবে গ্রহণ করে সরবরাহকৃত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সন্ত্রাসী ও তাদের ইন্ধনদাতাদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দীন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, ডা. জুলফিকার লেনিন প্রমুখ।
জেএ/ এমএনএইচ/








