চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে সরকার। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত জানানোর জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বুধবার (১২ জুলাই) সচিবালয়ে বিএমএ’র নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “বিএমএ’র মতামত পাওয়ার পর দ্রুত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভা বৈঠকে উত্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বৈঠকে বসবেন বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে রোগীদের স্বার্থের কথা ভেবে তাদের প্রতি সহানুভূতিমূলক আচরণে উৎসাহ যোগাতে বিএমএ’র পক্ষ থেকে প্রতি মাসে তরুণ চিকিৎসকদের নিয়ে বিশেষ কাউন্সেলিং কোর্স চালু করার পরামর্শ দেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম আরও বলেন, ‘চিকিৎসা দিতে আসা চিকিৎসক ও নিতে আসা রোগীর কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন সেদিকে লক্ষ্য রেখে সবাইকে কাজ করতে হবে।’
হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়নসহ চিকিৎসক সমাজের উন্নয়নে সভায় বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী। এ সময় বিএমএ নেতাদের প্রস্তাবনাগুলো শুনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নযোগ্য মতামতগুলো দ্রুত আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বিএমএ উত্থাপিত কয়েকটি প্রস্তাবনা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য হওয়ায় সেগুলো নিয়েও বৈঠক করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।
সভায় আরও ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল হক খান, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলামসহ বিএমএ’র সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া আহমেদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএমএ’র নেতারা।
/জেএ/জেএইচ/








