দেড় মাস পর বিরল ‘ওয়াইল্ড সিনড্রোম’ রোগে আক্রান্ত মাদারীপুরের কিশোর আব্বাস শেখ (১৩) বাড়ি যাচ্ছে। বুধবার বিকাল তিনটার দিকে আব্বাস শেখ ও তার বাবা রাজ্জাক শেখ ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হয়।
হাসপাতালের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার প্রিন্সিপাল ডা. এম এ আজিজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আব্বাস শেখকে দীর্ঘ দেড় মাস আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলো। আমরা তাকে বাড়িতে পাঠাতে চাইনি, তাকে ঢাকা মেডিক্যালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করার কথা ছিল। কিন্তু ছেলেটা একদম থাকতে চাইছে না। আমরা বলেছি বাড়িতে সপ্তাহ খানেক থেকে আবার ফিরে আসুক। এরপর তাকে ঢাকা মেডিক্যালের প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি হতে হবে।’
তিনি জানান, ঢাকা মেডিক্যালে আব্বাসের পায়ের অপারেশন হবে। আমাদের এখানে সব সুযোগ আছে কিন্তু সিঙ্গাপুরের টিম তো আমাদের প্রাইভেট হাসপাতালে আসবে না। তারা ঢাকা মেডিক্যালের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। তারা উৎসাহ দেখিয়েছে যে তারা আব্বাসের অপারেশন করতে চায়। আব্বাসের এখন ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ চলছে। সে এখন মোটামুটি আছে, তার পায়ের পানি কমে গেছে। পা ফোলা থাকলেও ফুসফুসের পানি কিছুটা কমেছে। সে আজ নিজে পায়ে হেঁটে হাসপাতাল থেকে বের হয়েছে। এটা অনেক ভাল একটা ব্যাপার।’
আব্বাস শেখের বাবা রাজ্জাক শেখ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আব্বাস বাড়ি যেতে চাইছিল। এখন বাড়ি যাওয়ার কথা শুনে মুখে হাসি ফুটেছে। গত পরশু, গতকাল ও আজ নিজের পায়ে হেঁটেছে সে। আজ লিফট থেকে নেমে কারও সাহায্য ছাড়াই হেঁটে গাড়িতে উঠেছে।’ তিনি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ও সিইও অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. রুবাইয়াত ইসলাম মন্টিকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি বিরল রোগে আক্রান্ত মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার আব্বাস শেখকে নিয়ে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ প্রতিষ্ঠানটির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজের নজরে আসে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. রুবাইয়াত ইসলাম মন্টির পরামর্শে আব্বাসকে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের পক্ষ থেকে চিকিৎসার দায়িত্ব ভার নেন। পরে আব্বাসের রোগ সনাক্তের জন্য ১৩ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে কর্তৃপক্ষ। গত ২ এপ্রিল সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সি জ্যাক চং নেতৃত্বাধীন ৭ সদস্যের একটি দল আব্বাসের রোগ সম্পর্কে অবগত হন।








