স্বাস্থ্যকর্মীসহ সব স্তরের শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের সুরক্ষায় জাতীয় সংসদে উত্থাপিত কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা বিল পাস করাসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। শুক্রবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তারা এসব দাবি তুলে ধরেন। বাংলাদেশ স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসংঘ এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধন থেকে তুলে ধরা ১০ দফা দাবির মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীসহ সব স্তরের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার সুরক্ষায় জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের অসংগঠিত শ্রমিকদের কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা বিল’ পাস করা, স্বাস্থ্যকর্মীদের চাকরি স্থায়ী করা, গৃহহীন স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ৮ ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে বাঁচার মতো মজুরি নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যকর্মীদের সাপ্তাহিক ছুটি ও খাবার বিরতি নিশ্চিত করা অন্যতম।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক, বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাজার হাজার সেবাকর্মীরা যুগ যুগ ধরে কাজ করে আসছেন। বর্তমানে এদের বেশিরভাগই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত। এ কারণে একই কাজে সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্তরা সবাই অনেক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকেন। আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত সেবাকর্মীরা চরমভাবে শ্রম ও মজুরি শোষণের শিকার। অথচ তারা না থাকলে রোগীর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তারা না থাকলে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়বে। এরকম গুরুত্বপূর্ণ সেবাদাতা মানুষগুলোর প্রতি সুবিচার কেবলমাত্র মানবিকই নয়, রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব।
বক্তারা আরও বলেন, গত ৯ ডিসেম্বর স্বাস্থ্যকর্মীদের জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবিনামা বিবেচনার জন্য আলাপ-আলোচনার কথা বলেছিলেন। তিনি কর্মীদের দাবির ন্যায্যতা স্বীকার করেছেন। তার এমন কথায় কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করছি, এবার অবশ্যই কিছু একটা হবে। কিন্তু এখনও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মীরা পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসংঘের উপদেষ্টা আবুল হোসাইন, সভাপতি সালেহা বেগম, কার্যকরী সভাপতি মাহমুদা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক আশা আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।








