বিএসএমএমইউতে ৩ বছরেও কেনা হয়নি লিনিয়ার এক্সিলারেটর

তাসকিনা ইয়াসমিন
২৩ জুলাই ২০১৮, ০৮:০০আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৮, ১৬:০৮

বিএসএমএমইউ (ছবি: সংগৃহীত) নানা জটিলতায় আটকে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) জন্য ক্যানসার-আক্রান্ত রোগীদের রেডিওথেরাপি দেওয়ার যন্ত্র লিনিয়ার এক্সিলারেটর (লিনিয়াক) কেনার প্রকল্প। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ লিনিয়াক কেনার উদ্যোগ নেন। এরপর দুবার টেন্ডার আহ্বান করা হলেও এখন পর্যন্ত যন্ত্রটি কেনা হয়নি। এ ব্যাপারে ক্রয় কমিটির বক্তব্য, ‘আমরা সেরা জিনিস কিনতে চাই বলেই দেরি হচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, লিনিয়ার এক্সিলারেটর কিনতে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে টেন্ডার আহ্বান করে বিএসএমএমইউ। কিন্তু টেন্ডার মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে অসন্তোষ ও জটিলতা দেখা দেয়। অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে একটি কমিটি গঠন করে দেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। এ তদন্ত কমিটি আগের টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের সুপারিশ করে। এ সুপারিশ মেনে ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর ফের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এখন অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমমানের মেশিন প্রায় ৪ কোটি ৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা বেশি দিয়ে কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ অভিযোগ ওঠার পর লিনিয়ার এক্সিলারেটর কেনার প্রকল্পটাই থমকে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লিনিয়ার এক্সিলারেটর কেনার ব্যাপারে এ পর্যন্ত কারিগরি উপ-কমিটির তিনটি সভা হয়েছে। এসব সভায় মেশিনটি দেখতে যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা দেখতে যাওয়া হয়নি।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘তখন কী যেন বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়েছিল। সেটা বাতিল করে পরবর্তী সময়ে আবার টেন্ডার করা হয়। সেটার প্রক্রিয়া এখনও চলছে। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লিনিয়ার এক্সিলারেটর কিনতে চাই। কিন্তু যে কমিটি আছে, তারা এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত দেয়নি। তারা সিদ্ধান্ত দিলে মেশিনটি কেনা হবে।’


লিনিয়ার এক্সিলারেটর কেনার ক্ষেত্রে কোনও পক্ষ থেকে বাধা আসছে কিনা, জানতে চাইলে ভিসি বলেন, ‘এখনও কমিটির কাজ শেষ হয়নি। এছাড়া এখন পর্যন্ত কমিটির মেম্বারদের কারও কাছ থেকে এ নিয়ে বিরূপ কিছুও চোখে পড়েনি।’
এ ব্যাপারে বিএসএমএমইউ’র সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বাংলা ট্রিবিউনকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘ওই সময় সংবাদপত্রে কিছু প্রতিবেদন এসেছিল, সেটা দেখেই আমরা তদন্ত কমিটি করেছিলাম। তদন্ত কমিটি তখন একটা রি-টেন্ডারের সুপারিশ করেছিল। সে সুপারিশ মতো আমরাও রি-টেন্ডার করেছিলাম।’
এ ব্যাপারে বিএসএমএমইউ’র ট্রেজারার অধ্যাপক ডা. আলী আসগর মোড়ল বাংলা ট্রিবিউনকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি কমিটিতে ছিলাম। অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের পর আমরা রি-টেন্ডারের ব্যবস্থা করেছিলাম।’
ক্রয় কমিটির প্রধান ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইপিআর-এর কিছু নিয়ম আছে। তিন বছর ধরে এটা (লিনিয়ার এক্সিলারেটর) কেনার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্পেসিফিকেশন মিলিয়ে মেশিনটা আমাদের কিনতে হবে। যেটা লোয়েস্ট প্রাইসে পাবো, সেটা কিনবো। এই মেশিন কিনতে দেরি হওয়ায় ক্যান্সার রোগীরা তাদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় রেডিয়েশন থেরাপি পাচ্ছেন না। এছাড়া, এ মেশিন না থাকায় শিক্ষা ও গবেষণার কাজও ব্যাহত হচ্ছে।’
প্রায় তিন বছর আগে উদ্যোগ নিয়ে এখনও লিনিয়ার এক্সিলারেটর কিনতে না পারা নিয়ে নানা গুজব আছে। এ ব্যাপারে ডা. সাহানা আখতার রহমান বলেন, ‘গুজব ছড়ানোর পেছনে কারও ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকতে পারে। দ্বিতীয় কারণ হতে পারে রোগীদের ভাগিয়ে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া। লিনিয়ার এক্সিলারেটর ক্রয় কমিটিতে আমি আছি। কেনার ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা রাখা হবে। রুলস ও স্টেপস মেনেই মেশিনটি কেনা হবে। কোটি টাকা বেশি দেওয়ার কথা হলে আমরা কোথা থেকে দেবো। মার্কেটে অনেক পণ্য থাকলেই তবে না আমরা যাচাই করে নিতে পারবো।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্যান্সার স্পেশালিস্টরা যেটা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, আমরা সেটাই নেবো। স্পেসিফিকেশন যাচাই করে তবেই মেশিনটা আমরা কিনবো। এক্ষেত্রে চার কোটি, চল্লিশ কোটি বড় বিষয় নয়। ভালো জিনিস নেওয়াটাই বড় বিষয়। তবে এটুকু বলতে পারি, আমরা হান্ড্রেড পার্সেন্ট ট্রান্সপারেন্সি মিলিয়েই কাজ করবো; এটা আমার চ্যালেঞ্জ। তবে, এখনও এই মেশিন কেনার ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্তই হয়নি।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘কোনও কোনও ক্ষেত্রে টেন্ডার প্রক্রিয়ার সময়ই এমন সিস্টেম করে দেওয়া হয়, যার কারণে মেশিনগুলো কিনতে দেরি হয়। তবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও এই মেশিন না থাকাটা অবিশ্বাস্য।’
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বাংলা ট্রিবিউনকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘লিনিয়ার এক্সিলারেটর একটি মেগা ভোল্টের এক্সরে। এখন কোবাল্ট ও লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন আছে। এরমধ্যে মাত্রার দিক দিয়ে লিনিয়ার এক্সিলারেটর বেশি উন্নত। এটি থাকলে উপকৃত হবে ক্যান্সার রোগীরা।’
এ প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউ’র জনসংযোগ কর্মকতা প্রশান্ত কুমার মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘লিনিয়ার এক্সিলারেটর ক্রয়ের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না; কিছুই বলতেও পারবো না। এটার ব্যাপারে সরাসরি এসে সংশ্লিষ্ট যারা, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’

/এমএ/চেক-এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম