করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন মহানগর জেনারেল হাসপাতালকে করোনা আইসোলেশন কেন্দ্র করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে বিশেষজ্ঞ দল হাসপাতালটি পরিদর্শনও করেছে। তবে বিশেষায়িত এই আইসোলেশন কেন্দ্রটি চালুর জন্য এখনও দেওয়া হয়নি চিকিৎসা সরঞ্জামসহ পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই)। অবশ্য এরই মধ্যে ১৬ জন চিকিৎসক ও ৩০ জন নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের আগ্রহে ১৫০ শয্যাবিশিষ্ট মহানগর জেনারেল হাসপাতালকে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আইসোলেশন কেন্দ্র করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হাসপাতালটির ১০০ শয্যা করোনা ইউনিট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। হাসপাতালের রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তর করতে হবে। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হসপিটাল অ্যান্ড ক্লিনিকস বিভাগের পরিচালক ড. আমিনুল হাসানের নেতৃত্বে একটি দল হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছে।
তবে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় গত ১৬ মার্চ ডিএনসিসির পক্ষ থেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পিপিই চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—জনবল, যন্ত্রপাতি, ওষুধপত্র, বিশেষায়িত গাউন, জুতা, মাস্ক ও বিশেষ ধরনের চশমাসহ পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই), চিকিৎসা টিমের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিট, রোগীদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রের লন্ড্রি সার্ভিসসহ এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চাওয়া হয়েছে। তবে অধিদফতর থেকে এখনও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন হাসপাতালটির চিকিৎসকরা।
এদিকে, এরই মধ্যে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের মহানগর জেনারেল হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে একটি নোটিশও টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে—‘করোনা রোগী সন্দেহ হলে মহানগর জেনারেল হাসপাতাল বা ১৬২৬৩ নম্বরে যোগাযোগ করবেন।’
জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনালের ডা. মো. শরীফ আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতরের চাহিদার ভিত্তিতে আমাদের মহানগর জেনারেল হাসপাতালকে করোনা ইউনিট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ রোগের চিকিৎসার জন্য যেসব উপকরণ দরকার সেগুলো আমাদের নেই। এজন্য আমরা একটা চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ডাক্তারদের জন্য জিনিসপত্র দরকার রয়েছে। তাদের প্রোটেকশন ইউনিফর্ম দরকার। সেখানে আইসিইউ নেই। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। মেডিসিন নেই। আমরা তাদের রিমাইন্ড দিয়েছি। ট্রেনিংয়ের বিষয়টিও বারবার বলেছি। কিন্তু তারা এখনও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাহলে কীভাবে করবো? আমাদের তো নিজস্ব ডাক্তার নেই। এই রোগের চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই।’
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রকাশ চন্দ্র রায় শুক্রবার বাংলা ট্রিবিউনকে প্রায় একই কথা বলেন। তবে শনিবার (২১ মার্চ) তিনি জানান, ১৬ জন চিকিৎসক ও ৩০ জন নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার ৪ জন চিকিৎসক যোগ দিয়েছেন। বাকিরা কাল-পরশুর মধ্যে যোগ দেবেন। আর নার্সরা প্রশিক্ষণে আছেন।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালটিকে আইসোলেশন কেন্দ্র করা হবে নাকি শুধু বহির্বিভাগ চিকিৎসা দেওয়া হবে, তা নিয়ে একটা অস্পষ্ট ছিল। তবে সিদ্ধান্ত হয়েছে এখানে দুটিই হবে। আইসোলেশন কেন্দ্রে রাখা কারও আইসিইউ দরকার হলে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার ও শনিবার বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ এবং অধিদফতরের হসপিটাল অ্যান্ড ক্লিনিকস বিভাগের পরিচালক ড. আমিনুল হাসানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।








