স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেছেন, ‘ফুসফুসের মধ্যেই এখন আর যক্ষ্মা সীমাবদ্ধ নেই। অন্যান্য অঙ্গে যে টিবি হচ্ছে সেটির নির্ণয় ঠিকমতো হয় না।’ মঙ্গলবার (৯ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে বছরব্যাপী যক্ষ্মা সচেতন কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। ইউএসএইড, স্বাস্থ্য অধিদফতর, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং আইসিডিডিআর,বি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
খুরশিদ আলম বলেন, ‘প্রচলিত যক্ষ্মার বাইরে আর যেসব যক্ষা আসবে সেগুলো নিয়েও আমাদের কাজ করা দরকার আছে। শিশুদের টিউবারক্লোসিস নিয়েও আমাদের কাজ করা দরকার। আমি সার্জন হিসেবে যে জায়গায় বিব্রত সেটা হলো, পোর্ট সাইড টিউবারক্লোসিস, যেটা ল্যাপরোস্কোপি করার সময় যেখানে ছিদ্র করা হয় সেই জায়গায় টিবি, অপারেশনের পরে স্কারের যে টিবি হচ্ছে, এই টিবিগুলো নির্ণয় হচ্ছে না ঠিকমতো। শুধু আন্দাজের ওপর ওষুধ দিয়ে দেখা যাচ্ছে, মাসের পর মাস ওষুধ খাচ্ছে, কিন্তু কোনও কাজ হচ্ছে না। এগুলোকে আপনারা তুলে ধরেন। সচেতনতা অবশ্যই বাড়াতে হবে, না হলে মানুষ জানবে কীভাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি অনেক নারী রোগী পেয়েছি যাদের টিবি হয়ে পেলভিস ফ্রোজেন হয়ে গেছে। যার কারণে বাচ্চা হচ্ছে না, প্রাথমিক বন্ধ্যাত্ব হচ্ছে। সেটি নিয়ে সংসারে অশান্তি, বিবাহ বিচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটছে। এখনকার যে টিবি সেটি ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ না। শরীরের যেকোনও জায়গায় টিবি হতে পারে। এতে রোগীরা শেষমেশ ভালো হয়তো হয়, কিন্তু জীবনের মান কমে যায়।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) কাজী জেবুন্নেসা, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, সংসদ সদস্য এরোমা দত্ত, স্বাস্থ্য অধিদফতরের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর সামিউল ইসলাম প্রমুখ।









