ঢাকার করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ও সংক্রমণের পূর্বাভাস সম্পর্কে ধারণা দেবে পয়ঃনিষ্কাশন নজরদারি ব্যবস্থা। একইসঙ্গে এ ব্যবস্থা কমিউনিটিতে কোভিড-১৯ ভাইরাসের আগাম উপস্থিতি নির্ণয়, ভাইরাসের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করতে ও হটস্পট সম্পর্কে ধারণা দিতে এবং প্রবাহমান ভাইরাসের ধরন এবং প্রকরণ পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম।
মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (আইইডিসিআর’বি) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, সোমবার ঢাকার সিক্স সিজনস হোটেলে আইসিডিডিআর,বি; ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়া, ইউএসএ; ইম্পেরিয়াল কলেজ অফ লন্ডন, ইউকে; রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর), স্বাস্থ্য অধিদফতর, বাংলাদেশ এবং অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান একটি আলোচনা সভার মাধ্যমে সর্বপ্রথম সম্মিলিতভাবে ঢাকার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় সার্স-কোভ-২ এর নজরদারি পদ্ধতি উপস্থাপন করে। এই নতুন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা পয়ঃনিষ্কাশনের পানিতে সার্স-কোভ-২ এর আরএনএ শনাক্ত করার মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর গতিবিধি সফলভাবে অনুসরণ করতে পারে।
এই নজরদারি ব্যবস্থা একটি প্রাথমিক নির্দেশক হিসেবে কাজ করে, যা কোভিড-১৯ এর সংক্রমণের বৃদ্ধি বা হ্রাসের পূর্বেই জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এই সংক্রমণের বৃদ্ধির বা হ্রাসের প্রবণতা অনুমান করতে সহায়তা করবে।
আইসিসিডিআর,বি-এর জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. রাশিদুল হক বলেন, বর্তমানে শুধু উপসর্গযুক্ত অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা নেওয়ার সময় করোনার পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু অনেক অসুস্থ ব্যক্তি চিকিৎসা করান না এবং অনেকে আছেন যারা উপসর্গবিহীন। এইভাবে কর্তৃপক্ষ প্রায়শই সংক্রামিত ব্যক্তির মোট সংখ্যা সম্পর্কে সঠিক ভাবে অবগত থাকেন না, যার ফলে সম্প্রদায়ের কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ অবমূল্যায়িত হয়। আমাদের মতো সক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা এই সকল অসুস্থ ব্যক্তিদের কার্যকলাপের ওপর নির্ভর করে না এবং এটি কোভিড-১৯-এর মতো সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবকে আরও কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে সাহায্য করে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য শাখা) সৈয়দ মজিবুল হক বলেন, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে এই ধরনের গবেষণা বাংলাদেশে একেবারেই নতুন। আমরা আন্তর্জাতিকভাবে ফলাফলগুলো ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হতে পারি এবং বিশ্বকে দেখাতে পারি যে আমরা কিভাবে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে নজরদারি করতে পারি। আমাদের তৃণমূল পর্যায়ে ফলাফল প্রচার করতে হবে যাতে আমরা মানুষের আচরণ পরিবর্তন করতে পারি।
ঢাকায় পয়ঃনিষ্কাশন পর্যবেক্ষণের সম্ভাবনার বিষয়ে মন্তব্য করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, আমরা যদি আরও বিশ্লেষণ করতে পারি এবং সারা ঢাকা শহরে নজরদারি ব্যবস্থা বাড়াতে পারি তাহলে এটি খুবই কার্যকর বিষয় হবে।
পয়ঃনিষ্কাশন নজরদারি গবেষণাটি বিল এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন দ্বারা অর্থায়িত।








