করোনায় আক্রান্ত ৭৮ শতাংশ মা অপরিণত সন্তান প্রসব করেছেন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৪ ডিসেম্বর ২০২১, ২০:৪৭আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২১, ২০:৪৭

করোনায় আক্রান্ত হননি এমন গর্ভবতী নারীর তুলনায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত গর্ভবতী নারীদের প্রায় অর্ধেকের মাতৃত্বজনিত বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কোভিড নেগেটিভ গর্ভবতীদের তুলনায় পজিটিভ গর্ভবতীদের প্রসবকালীন ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি।

মঙ্গলবার ( ১৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশে মহামারিকালে গর্ভধারণকারী নারীদের মাতৃত্ব এবং প্রসূত শিশুর পরিণতির সঙ্গে কোভিড-১৯ রোগের সম্পর্ক’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

৮৯০ জন নারীকে নিয়ে পরিচালিত এই গবেষণায় করোনায় আক্রান্ত গর্ভবতী ছিলেন ২১৫ জন আর আক্রান্ত নন এমন গর্ভবতী ছিলেন ৬৭৫ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ জরিপে ঢাকার চারটি সরকারি ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া গর্ভবতী নারীদের অতীত রেকর্ড এবং তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে করা হয়েছে।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৪ শতাংশের বয় ২৫ থেকে ৩৪ বছর। সাত শতাংশের বয়স ৩৫ থেকে ৪৫ বছর। ৩৯ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছর।

ফলাফল উপস্থাপনা করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়েজীদ খুরশীদ রিয়াজ। তিনি জানান, এ গবেষণায় দেখা গেছে গর্ভকালীন সময়ে করোনায় যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের ৫৪ শতাংশের স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব হয়েছে। বাকি ৪৬ শতাংশের নানা ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে। আর এই বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে প্রিটার্ম ডেলিভারি অর্থাৎ ৩৭ সপ্তাহের আগে সন্তান প্রসব হয়েছে ৭৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ, গর্ভে থাকা অবস্থায় সন্তানের মৃত্যু ১৫ দশমিক ১৫ শতাংশ আর জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ হয়েছে চার দশমিক চার শতাংশের।

গবেষণার ফলাফলে আরও পাওয়া গেছে, করোনায় আক্রান্ত হওয়া গর্ভবতীদের ৮৩ শতাংশের প্রসব সম্পন্ন হয়েছে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। আর করোনাতে আক্রান্ত হননি তাদের তুলনায় আক্রান্তদের ঝুঁকি ছিল এক দশমিক দুই শতাংশ। নন কোভিড গর্ভবতী নারীদের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসব হয়েছে ৬৮ শতাংশের। গবেষণাতে আরও পাওয়া গেছে, করোনায় আক্রান্ত গর্ভবতীদের প্রসবজনিত জটিলতা অন্যদের তুলনায় ছিল এক দশমিক পাঁচ গুণ। সেইসঙ্গে করোনায় আক্রান্ত গর্ভবতীদের শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে।

গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, আক্রান্ত নারীদের ৯১ দশমিক দুই শতাংশের করোনার লক্ষণ উপসর্গ ছিল, বাকি আট দশমিক চার শতাংশের কোনও লক্ষণ বা উপসর্গ ছিল না।

অধ্যাপক ডা. বায়েজীদ খুরশীদ রিয়াজ জানান, এই গবেষণা দলে তিনি ছিলেন প্রধান গবেষক। তার সঙ্গে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের রোগতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফাহমিদা আক্তার, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড হসপিটাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ডা. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রাশিদুল আলম, নবজাতক ডা. উম্মুল খায়ের আলম, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড হসপিটাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ডা. কামরুন্নাহার এবং ডা. আজমেরি শারমিন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিঞা, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ( প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, ওজিএসবি-(অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ হাসপাতাল) এর সাবেক দুই সভাপতি অধ্যাপক ডা. রওশন আরা ও অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী।

/জেএ/এমআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক