X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্তের হার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলবে

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:১৮

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের তাণ্ডবে দেশে হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ। বাড়তি রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে সংক্রমিত হচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরাও। বর্তমান সারাদেশের গড় সংক্রমণের হারের চেয়েও চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা বেশি হারে সংক্রমিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে যদি আশঙ্কাজনক হারে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হতে থাকেন, তাহলে সেটা পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলবে।

জানা যায়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের ল্যাবরেটরিতে ৩৪ জন চিকিৎসকের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত ২৪ জানুয়ারি। এর আগে ২০ জানুয়ারি করোনা শনাক্ত হন ২৯ জন চিকিৎসক। গত ১৭ জানুয়ারি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ছিল ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ। তাদের মধ্যে ছিলেন ১১ জন চিকিৎসক এবং ছয় জন নার্স। তার আগের দিন ১৬ জানুয়ারি শনাক্তের হার ছিল ৩৯ শতাংশ। নমুনা দেওয়া ১৭ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১৪ জন, চার জন নার্সের মধ্যে তিন জন এবং অন্যান্য পাঁচ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে তিন জন পজিটিভ শনাক্ত হন। তার আগের দিন ১৫ জানুয়ারি ১১ জন চিকিৎসকের মধ্যে পজিটিভ হয়েছিলেন সাত জন।

শীতকালে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, নিউমোনিয়া, শ্বাসতন্ত্রের রোগ অন্য সময়ের তুলনায় অনেকাংশে বেড়ে যায়। এ সময়ে এতজন চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা এভাবে আক্রান্ত হতে থাকলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা তৈরি হবে, এতে কোনও সন্দেহ নেই।

একই অবস্থা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি ল্যাবেও। ল্যাব স্টাফদের মধ্যে গত শনিবার চিকিৎসক, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ও এমএলএসএস  মিলিয়ে সাত জন পজিটিভ শনাক্ত হন। একই চিত্র ঢাকার প্রায় সব হাসপাতালে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে করোনাভাইরাস মহামারির শুরু থেকে গত ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত চিকিৎসকসহ ৯ হাজার ৪৯৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসক রয়েছেন তিন হাজার ১৩৬ জন, নার্স দুই হাজার ৩০৪ জন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন চার হাজার ৫৪ জন। তাদের মধ্যে অনেকেই দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের মতো সংক্রমিত হচ্ছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুসরাত সুলতানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘আমাদের জন্য পরিস্থিতিটা ভীষণ অ্যালার্মিং। এভাবে যদি চিকিৎসকসহ অন্যরা আক্রান্ত হতে থাকেন তাহলে সেটা পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ ফেলবে।’

ওমিক্রন এখন ঘরে ঘরে ঢুকে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনকভাবে প্রতিদিন বাড়ছে। যখন স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হয়ে যান, তখনতো তাদের রিপ্লেসমেন্ট হবে না। তখন কিন্তু পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।’

ডা. নুসরাত সুলতানা বলেন, ‘হাসপাতালে তো কেবল কোভিড নয়, নন কোভিড প্রচুর রোগীও এখন আসছেন। তাদের মধ্যে কারও ইমার্জেন্সি অস্ত্রোপচারের দরকার হয়। বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক-নার্স যখন আইসোলেশনে থাকবেন, তখন চিকিৎসা দেওয়ার মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আগে দেখা যেত জুনিয়র চিকিৎসকরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু এবারে সিনিয়র চিকিৎসকরাও রয়েছেন এই তালিকায়। আর এটা বিশাল চাপ ফেলবে।’

চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি এভাবে আক্রান্ত হতে থাকেন তাহলে সেটা খুব খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করবে জানিয়ে বিএমএ মহাসচি ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “ওমিক্রন যেহেতু ডেল্টার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সংক্রমণ করে, তাই স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা বেশি আক্রান্ত হবেন। কারণ, সেই প্রথম সময়ের মতো এখনও রোগীদের ‘লুকিয়ে’ চিকিৎসকের কাছে আসার মানসিকতা দূর হয়নি।”

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, যদি চিকিৎসকরা হাসপাতালে ডিউটি করে বাসা থেকে আলাদা হয়ে থাকতে পারতো বা থাকার মতো ব্যবস্থা সরকার করে দিতো, তাহলে হয়তো চিকিৎসকদের মাধ্যমে তাদের পরিবারের মানুষগুলো সংক্রমিত হতেন না।’

‘চিকিৎসকরা কিন্তু চিকিৎসা দিতে কখনও পিছপা হননি বা অস্বিকৃতি জানাননি। কেবল সন্তান এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কথা ভেবে হাসপাতালে টানা কাজ করার পর তারা যেন কোয়ারেন্টিনে যেতে পারেন-সে দাবি করেছিল’, বলেন ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী।

বিএমএ মহাসচি বলেন, ‘পরিবার যেন তাদের মাধ্যমে আক্রান্ত না হয়—এটা চিকিৎসকরা চান।  ওমিক্রনতো খুবই ছোঁয়াচে, তাই এটা নিয়ে তারা আপসেট।’

চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যর্মীদের যদি আগের মতো একটা থাকার জায়গা থাকতো, তাহলে সেটা খুব ভালো হতো উল্লেখ করে ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আর এবারতো ১৪ দিন বা তারও বেশি সময় থাকার দরকার হচ্ছে না। পাঁচ থেকে ছয় দিনের মতো আইসোলেশনে থাকলেই হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকসহ অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের এই সাপোর্টটুকু দেওয়ার খুব বেশি দরকার এখন।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা গত দুই বছর ধরেই সংক্রমিত হচ্ছেন—হয়তো কখনও বেশি, কখনও কম।’

কাজ করতে করতে অনেক চিকিৎসকই একাধিকবার আক্রান্ত হয়েছেন, কেউ তৃতীয়বারের মতোও আক্রান্ত হয়েছেন। এটা মেনে নিয়েই আমরা কাজ করছি মন্তব্য করে অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘খুব বেশি সংখ্যায় সংক্রমিত হলে বাকিদের ওপর অনেক বেশি চাপ বেড়ে যাবে। কারণ, চিকিৎসা দেওয়ার মতো কাজটাতো কাউকে না কাউকে করতে হবে। তাই আমাদের যে গাইডলাইন বা যে পলিসি রয়েছে, সেগুলো মেনে কাজ করতে হবে। সবাই যদি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকি, তাহলে হয়তোবা এখনকার হারের চেয়ে কিছুটা কমে আসবে।’

‘নভেম্বর-ডিসেম্বরে রোগী কমে যাওয়ার পর সাধারণ মানুষের মতো চিকিৎসকরাও রিলাক্টেন্ট ছিল, কিন্তু সব মিলায়ে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার সময় এসছে এখন। সেটা সাধারণ মানুষের মতো চিকিৎসকসহ অন্যদের বেলায়ও প্রযোজ্য। তাহলে হয়তো পরবর্তী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা ওভারকাম করতে পারবো’, বলেন অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম।

 

/আইএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমন্ত্রীকে ৩ ঘণ্টা জেরা 
শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমন্ত্রীকে ৩ ঘণ্টা জেরা 
এনআইডির বয়স সংশোধনে ৩০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ
এনআইডির বয়স সংশোধনে ৩০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ
গাড়ি তল্লাশিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও র‍্যাবের হাতাহাতি, তদন্ত কমিটি গঠন
গাড়ি তল্লাশিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও র‍্যাবের হাতাহাতি, তদন্ত কমিটি গঠন
জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান ডিএনসিসির মেয়রের
জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান ডিএনসিসির মেয়রের
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বিশ্ব জানতে চায়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বিশ্ব জানতে চায়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
শনাক্ত ২২, টানা ২৭ দিন মৃত্যু নেই 
শনাক্ত ২২, টানা ২৭ দিন মৃত্যু নেই 
অ্যান্টিবায়োটিকের গায়ে থাকবে সতর্কতা চিহ্ন
অ্যান্টিবায়োটিকের গায়ে থাকবে সতর্কতা চিহ্ন
স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া প্রসূতির রাস্তায় সন্তান প্রসব
স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া প্রসূতির রাস্তায় সন্তান প্রসব