ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পর এবার সারাদেশে নির্ধারিতে ব্যাচের নাপা বিক্রি করতে নিষেধ করেছে বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতি। সমিতির পরিচালক আবদুল কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ‘নাপা সিরাপ সেবন করে’ একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সারাদেশের পাইকারি ও খুচরা ফার্মেসি পরিদর্শন করে ওই ওষুধ পরীক্ষার নির্দেশ দেয় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। সেই সঙ্গে পরীক্ষার প্রতিবেদন ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর জন্যও বলা হয়েছে।
রবিবার (১৩ মার্চ) ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে- বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালসের প্যারাসিটামল ১২০ মিলিগ্রাম ও ৫ মিলিগ্রাম সিরাপের (ব্যাচ নং ৩২১১৩১২১, উৎপাদন তারিখ ১২/২০২১, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ১১/২০২৩) ওষুধ সেবন করে একই পরিবারের দুই শিশু মারা গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাকে স্ব-স্ব নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা ফার্মেসি পরিদর্শন করে ওই ব্যাচের নমুনা পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, যদি দোষী প্রমাণিত হয় তাদের বিরুদ্ধে সরকারি যে আইন আছে সেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ওই ঘটনা তদন্তে জেলার সিভিল সার্জনসহ কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে ফার্মেসি থেকে ওষুধ নেওয়া হয়েছে সেখানে ওষুধ বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া সিরাপগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি কাজ করছে। অপেক্ষা করছি রিপোর্ট কী আসে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব লোক জড়িত আছে, যদি দোষী প্রমাণিত হয় তাদের বিরুদ্ধে সরকারি যে আইন আছে সেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।
বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির পরিচালক আবদুল কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পুরো দেশে সমিতির শাখা রয়েছে। সেসব শাখাকে বলা হয়েছে, তারা যেন ওই ওষুধ কোম্পানির সরবরাহকারীদের বলে, ওই ব্যাচের নাপার কোনও রকমের মার্কেটিং করা না হয়। আপাতত নাপা সিরাপ এবং ড্রপ বন্ধ রাখার জন্যও বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোম্পানির কাছ থেকে আমরা এখনও কোনও ফিডব্যাক পাইনি। আরও ব্যাচ খারাপ রয়েছে কিনা সেটা আমরা জানি না। সমিতির পক্ষ থেকে কেবলমাত্র ওই ব্যাচটির কথা বলা হয়েছে। যেহেতু এই ব্যাচ নম্বরটি আমার সামনে রয়েছে-এখন এটাতেই ফোকাস দেওয়া হয়েছে।
তাই কেবলমাত্র ওই ব্যাচের সিরাপ এবং ড্রপ বিক্রি না করার জন্য বলা হয়েছে পুরো দেশে।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে জেলায় নাপা সিরাপ বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি।









