উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অর্ধেকের অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১১ অক্টোবর ২০২২, ১৭:১৯আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২২, ১৭:১৯

উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অর্ধেকের অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে ৩০-৭৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর ১.৪ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, যার দুই তৃতীয়াংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের জনগণ। মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে  উচ্চ রক্তচাপ ও হাইপার এল্ডোস্টেরনিজম বিষয়ক সচেতনতা মূলক ‘স্ক্রিনিং ফর প্রাইমারি অ্যালডোসটেরোনিসম: দ্যা লিডিং কস অব সেকেন্ডারি এইচটিএন’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লক মিলনায়তনে এন্ডোক্রাইন হাইপারটেনশন স্টাডি গ্রুপ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক। সাধারণত  উচ্চ রক্তচাপের কোনও লক্ষ্মণ থাকে না, তবে অনেক মরণঘাতী রোগের কারণ ঘটায়। যেমন- হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেলিউর, স্ট্রোক, চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো, কিডনি ফেলিউর, রক্তনালির রোগ ইত্যাদি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনও কারণ পাওয়া না গেলেও শতকরা ৫-১০ জনের ক্ষেত্রে কারণ নির্ণয় করা যায়। এই রোগী পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। যাকে সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন বলা হয়। সেকেন্ডারি হাইপারটেনশনের এক তৃতীয়াংশ রোগী হাইপার এল্ডোস্টেরনিজম এ আক্রান্ত। যার রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পদ্ধতি আমাদের দেশে এখনও শুরু হয়নি।

সেমিনারে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলোজি বিভাগ অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এ সংক্রান্ত গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগ ও এন্ডোক্রাইনোলোজি বিভাগ পৃথক উচ্চ রক্তচাপ ক্লিনিকের মাধ্যমে এ রোগীদের বিশেষ সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় রোগীদের সর্বোচ্চ সেবাদানের জন্য বদ্ধপরিকর। রোগীদের সেবার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণার গুণগতমান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ ধরণের সেমিনার বেশ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে হাইপার টেনশন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে হাইপারটেনশনে আক্রান্ত রোগীরা নিজেরাও তা বুঝতে পারেন না। বুঝলেও সচেতনতার অভাবে তারা দিন দিন মৃত্যুর দিকে ধাবিত হন। হাইপার টেনশনকে এ কারণে নীরব ঘাতক বলা হয়ে থাকে। কারণ উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপার টেনশনে লক্ষ্মণ থাকে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনও কারণ পাওয়া না গেলেও শতকরা ৫-১০ জনের ক্ষেত্রে কারণ নির্ণয় করা যায় এবং তাদের রোগ পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।

সেমিনারে এন্ডোক্রাইনোলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শারমিন জাহান ও হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. ফখরুল ইসলাম খালেদ প্রবন্ধ উপস্থাপন  করেন। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন এন্ডোক্রাইনোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মুহম্মদ আবুল হাসানাত।

/এসও/এমআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
‘ঋণের ভ্যান গেলো, এখন কিস্তি দেবো কী করে’, অটোভ্যান হারিয়ে নিঃস্ব শাহাদৎ 
‘ঋণের ভ্যান গেলো, এখন কিস্তি দেবো কী করে’, অটোভ্যান হারিয়ে নিঃস্ব শাহাদৎ 
বিক্ষোভে ফের উত্তপ্ত যন্তর মন্তর, আহত ৫ পুলিশ সদস্য
বিক্ষোভে ফের উত্তপ্ত যন্তর মন্তর, আহত ৫ পুলিশ সদস্য
টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করা কেন জরুরি
টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করা কেন জরুরি
১০ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত 
১০ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত 
সর্বাধিক পঠিত
জামায়াত এমপির বিয়ে আর কাবিনের গোমর ফাঁস করে দিলেন কাজী
জামায়াত এমপির বিয়ে আর কাবিনের গোমর ফাঁস করে দিলেন কাজী
হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই শিক্ষিকার চার সন্তান নিয়ে দিশেহারা পরিবার
হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই শিক্ষিকার চার সন্তান নিয়ে দিশেহারা পরিবার
আদালতে বিচার চলাকালে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক
আদালতে বিচার চলাকালে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক
মুক্তি পেয়েই যে বার্তা দিলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
মুক্তি পেয়েই যে বার্তা দিলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
‘সময় নষ্ট করবেন না’, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশি বলপ্রয়োগ নিয়ে আবেদন নাকচ সুপ্রিম কোর্টের
‘সময় নষ্ট করবেন না’, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশি বলপ্রয়োগ নিয়ে আবেদন নাকচ সুপ্রিম কোর্টের