দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালেই ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. শেখ দাউদ আদনান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও নিবন্ধনকালে দেখা হয়— সেসব হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা চালু আছে কিনা।’
সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের আয়োজনে ‘জরুরি চিকিৎসাসেবা বিষয়ক হাইকোর্টের রায় ও তার বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের উপদেষ্টা মণ্ডলির সদস্য ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. এ বি এম হারুন।
ডা. শেখ দাউদ আদনান বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্য লজিস্টিক সাপোর্ট আরও বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার পোর্টেবল অপারশন থিয়েটার চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে।’
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের উপদেষ্টা ডা. ইয়াসমিন আহমেদ একটি প্রেজেন্টেশন দেন। সেখানে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের কার্যক্রম তুলো ধরা হয়। এরপর ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম তার মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন। নিবন্ধের শুরুতেই তিনি নীতিমালার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার এক ব্যক্তিকে সৈয়দ সাইফ কামাল নামের একজন ব্যক্তি বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবা প্রত্যাখ্যান করার কারণে তিনটি বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে হয়েছিল তাকে। সর্বশেষ গুলশান থানার একজন সাব ইন্সপেক্টরের সঙ্গে আরেকটি হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাইফুদ্দিন কামালের পক্ষে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)ভিক্টিমের পক্ষে মামলা দায়ের করে। মামলায় ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা সেবাপ্রদান এবং তাদের সহায়তাকারী ব্যক্তিদের সুরক্ষার জন্য সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ সহায়তাকারীর সুরক্ষা প্রদান নীতিমালা, ২০১৮’ অনুমোদন করেছে।
ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম আরও তুলে ধরেন যে, বাংলাদেশে হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলোতে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করতে অস্বীকার করার পেছনে নানাবিধ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু কারণ হলো— চিকিৎসা আইন সংক্রান্ত জটিলতা এবং আহতপক্ষের চিকিৎসার অর্থ প্রদানের অক্ষমতা।
হেলথ ওয়াচ জানায়, এই গোলটেবিল আলোচনা সভার উদ্দেশ্য ছিল— ২০১৬ সালের রিট পিটিশন নম্বর ১৫০৯-এ হাইকোর্ট কর্তৃক অনুমোদিত ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ।এছাড়া, সহায়তাকারীর সুরক্ষা প্রদান নীতিমালা, ২০১৮ এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ২০১৬ এর রিট পিটিশন নং ১৫০৯-এ হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশিত নীতিমালা সম্পর্কে ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে অবহিত করা। সংশ্লিষ্ট মহলের মধ্যে নীতিমালা প্রচারের উপায় নিশ্চিত করা। সরকারি ও বেসরকারি মহলের মধ্যে নীতিমালা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আলোচনা করা।
এম হারুন বলেন, ‘আমাদের দেশে ইমারজেন্সি মেডিক্যাল টিম তৈরি করতে হবে। তাদের পর্যাপ্ত ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।’









