ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকার সব সরকারি হাসপাতালে আরও দেড় হাজার শয্যা (বেড) বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আগামী সাতদিনের মধ্যে এই অতিরিক্ত বেড প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং হাসপাতাল পরিচালকদের সঙ্গে আয়োজিত সভায় এই নির্দেশনা দেন তিনি। সভায় সারা দেশের বিভাগীয় পরিচালক, সিভিল সার্জনরা সংযুক্ত ছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
বুধবার পাওয়া তথ্য মতে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৬৫৩ জন। এসময়ে মারা গেছেন আরও ১৪ জন। এই বছর এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার ৩৪১ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২১৫ জন। বর্তমানে ঢাকার ২০টি সরকারি হাসপাতালে ২ হাজার ৫১৮ জন ভর্তি আছেন। তবে কয়েকটি সরকারি হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী অবস্থান করছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী আছেন ঢাকার মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। জায়গার সংকুলান না থাকায় মুগদা হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতে নিরুৎসাহিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বিকল্প হিসেবে মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বুধবার জানান, মুগদা হাসপাতালে বেড বৃদ্ধি করার আর সুযোগ নেই। সেখানে সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করে গেছে। অনুগ্রহ করে সবাইকে জানাবেন যে মুগদা হাসপাতালমুখী যেন না হয়, কারণ ওখানে বেড নেই।
অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, সবাই যদি এক জায়গায় যায় তাহলে চিকিৎসা কীভাবে হবে? কুর্মিটোলা হাসপাতালে ২৫০ বেডের মধ্যে ৬০ বেড খালি আছে, আমরা আরও ১০০ বেড বাড়াতে বলেছি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরও ১৫০ বেড, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালেও আরও ১০০ বেড বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ২ হাজার ৫০০ বেড প্রস্তুত আছে বিভিন্ন হাসপাতালে। প্রতিদিন রোগী ভর্তি হচ্ছে ১ হাজার ২০০-এর মতো, ছাড়া পাচ্ছেন ৯০০ থেকে ১০০০-এর মতো। অর্থাৎ ২০০-৩০০ বেড স্থিতি থাকছে। গতকাল (মঙ্গলবার) স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিটিং করে বলেছেন, সবাইকে ২০০-৩০০ বেড বৃদ্ধি করতে হবে। সেই হিসাবে সব হাসপাতালকে বলা হয়েছে। এছাড়া ডিএনসিসিকে বলেছি, ৮০০টির মতো শয্যা সেখানে প্রস্তুত করতে। কুর্মিটোলা হাসপাতালে আমরা আরও ১০০ বেড প্রস্তুত করার জন্য বলেছি, হাসপাতালটিতে ৬০টি বেড এখনও ফাঁকা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজকে ১৫০টি এবং কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আরও ১০০টি শয্যা বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ৩০০ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৩১৫ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২০০ জন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ২০০ জন, মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে ৩২৫ জন রোগী ভর্তি আছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমআইএস শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. শাহাদাত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মুগদা হাসপাতালের মতো অবস্থা অন্যান্য হাসপাতালে নেই। অন্যগুলোতে বেড খালি আছে। গতকাল (মঙ্গলবার) সিদ্ধান্ত হয়েছে ঢাকায় আরও দেড় হাজার বেড বাড়ানোর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে বাড়াবেন।
রাজধানীর শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. খলিলুর রহমান বলেন, আমাদের সক্ষমতা ছিল ২০০ বেড, তা পরিপূর্ণ। আমরা আরও ২০০ বেড বাড়াতে পারবো। আগামী সাতদিনের মধ্যে ১০০ বেড বাড়ানো যাবে বলে আশা করি।









