কথা ছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর পরিদর্শন করবেন উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম। সোমবার (১৯ আগস্ট) সকালে মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরের নতুন ভবনের সামনে পৌঁছালে তিনি দেখেন একদল চিকিৎসক পথ আটকে বিক্ষোভ করছেন। তাদের দাবি– সদ্য দায়িত্ব পাওয়া ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিনের অপসারণ। স্বাস্থ্য অধিদফতরে প্রবেশ করতে না পেরে উপদেষ্টা মহাখালী ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে বৈঠকের চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেও হট্টগোলের কারণে হাসপাতাল ত্যাগ করেন তিনি।
রবিবার (১৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত নতুন মহাপরিচালক হিসেবে অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। আজ তার অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ করেছেন একদল চিকিৎসক। সোমবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর টিবি গেট সংলগ্ন নতুন স্বাস্থ্য ভবনে চিকিৎসকদের বিক্ষোভের মুখে স্বাস্থ্য অধিদফতরে প্রবেশ করতে পারেননি ডা. রোবেদ আমিন। চিকিৎসকদের বিক্ষোভের কারণে স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ নতুন ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্টরা মহাখালীর কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় নির্ধারিত ডিএনসিসি হাসপাতালে যান। বেলা ১১টার দিকে মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে মিছিল শুরু করেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। মিছিল নিয়ে তারা কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে যান।
সূত্র জানায়, সেখানে স্বাস্থ্য উপেদষ্টা নুরজাহান বেগমের উপস্থিতিতে একদল চিকিৎসক স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. টিটো মিয়াঁ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক আহমেদুল কবীরের পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ করেন। এসময় আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবিতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সামনেই বিক্ষোভ করেছেন বিএনপিপন্থি চিকিৎসক-কর্মচারীরা। এতে সভার মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন একদল চিকিৎসক। এক পর্যায়ে তারা হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে ঢোকার চেষ্টা করেন। এ সময় হাসপাতালের একজন চিকিৎসক তাদের বাধা দেন। তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি, ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে বিক্ষোকারীরা ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক করছিলেন উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। তার সামনেই কিছুক্ষণ হট্টগোল করেন বিক্ষোভকারীরা।
এসময় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ আমলে স্বাস্থ্য খাতে যত অপকর্ম হয়েছে, এগুলোর সহযোগী ছিলেন ওই কর্মকর্তারা।
যাবার সময় তিনি বিক্ষোভকারী চিকিৎসকদের ৫-৬ সদস্যকে নিয়ে মিটিং করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেছেন বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টরা।
ডিএনসিসি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্র আন্দোলনে আহতদের ডিএনসিসি হাসপাতালে রেখে চিকিৎসার বিষয়ে মিটিং করতে এসেছিলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। এসময় নতুন ডিজি ছাড়াও সদ্য সাবেক ডিজি বিশেষজ্ঞ সার্জন অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম এবং ডিএনসিসির উপ পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মোমিনুর রহমান, ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের পরিচালক কর্নেল জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।









