পেপ্যাল ও গ্লোবাল সিটিজেনের ‘স্মল বিজনেস ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’ পাচ্ছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মামুনুর রশীদ। তার প্রতিষ্ঠান অ্যাকুইসিম এআই লিমিটেড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এমন একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ও বিভিন্ন ভাষায় কথা বলা রোগীরা অনলাইনে চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত পেপালের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ বছর ১৫ জন উদ্যোক্তাকে এ পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকে পাবেন ২০ হাজার ডলার অনুদান। পাশাপাশি, ব্যবসা বড় করতে হাতে-কলমে সহায়তাও দেওয়া হবে। গত বছর পাঁচ উদ্যোক্তাকে নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছিল এ কর্মসূচি। এবার এর পরিসর বাড়িয়েছে পেপ্যাল ও গ্লোবাল সিটিজেন।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে কাজ করছে অ্যাকুইসিম এআই। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাকশিল্পের নারী কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা, নোয়াখালীর গ্রামীণ হাসপাতালে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রাঙ্গাবালীতে অনলাইনে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ।
এ ছাড়া ফুডপান্ডার সঙ্গে অংশীদারত্বে দেশজুড়ে ১৮ হাজার ডেলিভারি কর্মীর জন্য কম খরচে অনলাইনে স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস অঞ্চলে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ ও সমস্যাগুলো নিয়েও কাজ করছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে এমআইটি সলভ প্রতিযোগিতায় বৈশ্বিক বিজয়ী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে অ্যাকুইসিম এআই।
পুরস্কার পাচ্ছেন আরও ১৪ উদ্যোক্তা
এ বছরের অন্য বিজয়ীদের উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে উদ্বৃত্ত পণ্য অলাভজনক সংস্থার কাছে পৌঁছে দেওয়া, ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল থেকে সেলাইয়ের সুতা তৈরি, শিক্ষার্থীদের রোবোটিকস ও কৃষিপ্রযুক্তি শেখানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সাংকেতিক ভাষা অনুবাদ।
এ ছাড়া নিরাপদ পানি, কম খরচে শৌচাগার, জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিশুদের শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নিয়ে কাজ করা উদ্যোক্তারাও এ পুরস্কার পাচ্ছেন।
পেপ্যালের প্রধান করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা অ্যামি বনিটাবিটাস বলেন, সমাজের জরুরি সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করা উদ্যোক্তাদের নতুন ধারণায় বিনিয়োগ করতে পেরে প্রতিষ্ঠানটি গর্বিত। গ্লোবাল সিটিজেনের প্রেসিডেন্ট লিজা হেনশ বলেন, চরম দারিদ্র্য দূর করতে উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিষ্ঠিত গ্লোবাল সিটিজেন চরম দারিদ্র্য দূর করতে কাজ করে। পেপ্যাল অর্থ স্থানান্তর, বিক্রয় ও কেনাকাটার সেবা দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করছে।