সাগর, নদী কিংবা যেকোনও প্রাকৃতিক বাধা পেরিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য গড়ে তোলা হয় সেতু। এর মধ্যে বেশকিছু ‘ব্রিজ’ দেখতে চমৎকার ও মনোরম। তবে শুধুই পথচারীদের জন্য নির্মিত কিছু সেতুও দর্শনীয়। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের এমন ৫টি সেতুর কথা রইলো এখানে।
দ্য হেলিক্স ব্রিজ
সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে অঞ্চলে রয়েছে পথচারীদের জন্য ‘দ্য হেলিক্স ব্রিজ’। ২০১০ সালের ২৪ এপ্রিল স্থানীয় সময় রাত ৯টায় এটি উদ্বোধন হয়। তবে সাগরপাড়ে নির্মাণ কাজ চলতে থাকায় পুরোটা চালু করা যায়নি। পরে ওই বছরের ১৮ জুলাই সেতুটি পরিপূর্ণতা পায়। এটি একটি সুড়ঙ্গের মতো। তবে তা আবদ্ধ নয়। এর ভেতর দিয়ে চলার সময় চোখে পড়বে পরিষ্কার আকাশ ও সাগরের নীল জলরাশি। সেতুটি নির্মাণে ব্যবহার হয়েছে স্টেইনলেস স্টিল। এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে রঙ-বেরঙের বাতি। তাই সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর জেগে ওঠার সঙ্গে রূপ বদলে যায় সেতুর!
দ্য হেন্ডারসন ওয়েভস ব্রিজ
সিঙ্গাপুরে পথচারীদের আরেক অবলম্বন ‘দ্য হেন্ডারসন ওয়েভস ব্রিজ’। বাইরে থেকে এটি দেখতে সোনালি রঙা ড্রাগনের মতো! অনেকের মনে হতে পারে, সোনার তৈরি আঁকাবাঁকা চলতে থাকা কোনও সাপ! ঢেউয়ের মতো কোথাও কোথাও উঁচু আবার নিচু হয়ে নেমে গেছে এটি। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, এ যেন ড্রাগন কিংবা ঢেউয়ের ওপর ভেসে বেড়ানো কোনও সেতু!
ল্যাংকাউই স্কাই ব্রিজ
বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের ডন: দ্য চেজ বিগিন্স ছবির শেষ দৃশ্যের কথা মনে পড়ে? মালয়েশিয়ার কেদা রাজ্যের ল্যাংকাউই দ্বীপপুঞ্জে স্কাই ব্রিজে এর শুটিং হয়েছিল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ১৭০ ফুট ওপরে অবস্থিত এই সেতুতে যেতে হয় ক্যাবল কারে চড়ে। সময় লাগে মাত্র দুই মিনিট। পথচারীদের জন্য নির্মিত সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০০৫ সালে। রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য ২০১২ সালের জুলাইয়ে সেতুটি বন্ধ করা হয়। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবারও এটি খুলে দেওয়া হয়। ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে ক্যাবল কার চালু হয়।
সিওসেপল ব্রিজ
ইরানের আল্লাভারদি খান ব্রিজটি ‘সিওসেপল ব্রিজ’ নামেই বেশি জনপ্রিয়। দেশটির সবচেয়ে বড় নদী জয়ানদরুদের ওপর সপ্তদশ শতকের গোড়ার দিকে গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক এই সেতুতে রয়েছে ৩৩টি খিলান। এটি একইসঙ্গে বাঁধ হিসেবেও কাজ করে। ইরানে জনসমাগম হয় এমন জনপ্রিয় স্থানগুলোর মধ্যে এই সেতু অন্যতম। সন্ধ্যা গড়ানোর পরপর সেখানে বাতি জ্বলতেই যেন হাতছানি দেয় প্রাচীন পারস্য! ইরানের রাজকীয় স্থাপত্যের বিখ্যাত নিদর্শনগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
শাহারা ব্রিজ
ইয়েমেনের পার্বত্য অঞ্চল শাহারায় এই সেতুও গড়ে উঠেছে সপ্তদশ শতকে। দুটি গ্রামের মধ্যে সেতুবন্ধনের জন্য এই উদ্যোগ নেন তৎকালীন লর্ড। এতে ব্যবহৃত হয়েছে চুনাপাথর। জাবাল শাহারা নামের পাহাড়ের কাছে এটি দেখতে পর্যটকরা ভিড় করেন। পাহাড়ের রাজ্যে এমন প্রাচীন স্থাপনা মন কাড়ারই মতো।








